পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পিতৃদেব । ○ > আসিতেন তখন কঁহার প্রভাবে যেন সমস্ত বাড়ি ভরিয়া উঠিয়া গম গম্‌ করিতে থাকিস্ত । দেখিতাম গুরুজনেরা গায়ে জোপবা পরিয়া, সংযত পরিচ্ছন্ন হইয়া, মুখে পান থাকিলে তাহ বাহিরে ফেলিয়া দিয়া তাহার কাছে ঘাইতেন। সকলেই সাবধান হইয়৷ চলিতেন। রন্ধনের পাছে কোনো ক্রটি হয় এই জন্য মা নিজে রান্নাঘরে গিয়া বসিয়া থাকিতেন । বৃদ্ধ কিন্তু হরকরা তাহার তকমাওয়াল পাগড়ি ও শুভ্র চাপকন পরিয়া দ্বারে হাজির থাকিত। পাছে বারান্দায় গোলমাল দৌড়াদৌড়ি করিয়া তাঙ্গর বিরাম ভঙ্গ করি এজন্য পূর্বেই আমাদিগকে সতর্ক করিয়া দেওয়া হইয়াছে । আমরা ধীরে ধীরে চলি, ধীরে ধীরে বলি, উকি মারিতে আমাদের সাহস হয় না । একবার পিতা তা সিলেন আমাদের তিন জনের উপনয়ন দিবার জন্য । বেদান্তবাগীশকে লইয়া তিনি বৈদিক মন্ত্র হইতে উপনয়নের অনুষ্ঠান নিজে সঙ্কলন করিয়া লইলেন। অনেক দিন ধরিয়া দালানে বসিয়া বেচারাম বাবু প্রত্যহ আমাদিগকে ব্রাহ্মধৰ্ম্মগ্রন্থে সংগৃহীত উপনিষদের মন্ত্রগুলি বিশুদ্ধরীতিতে বারম্বার আবৃত্তি করাইয়া লইলেন । যথাসম্ভব প্রাচীন বৈদিক পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া আমাদের উপনয়ন হইল। মাথা মুড়াইয়া বীরবেলি পরিয়া আমরা তিন বটু তেতালার ঘরে তিন দিনের জন্য তাবদ্ধ হইলাম। সে অামাদের ভারি মজ লাগিল। পরস্পরের কানের কুণ্ডল ধরিয়া আমরা টানাটানি বাধাইয় দিলাম। একটা বায়| ঘরের কোণে পড়িয়াছিল—বারান্দায় দাড়াইয়া যথন দেখিতাম নীচের তলা দিয়! কোনো চাকর চলিয়া যাইতেছে ধপাধপ শব্দে আওয়াজ করিতে থাকিতাম—তাহারা উপরে মুখ তুলিয়াই তামাদিগকে দেখিতে পাইয়৷ তৎক্ষণাৎ মাথা নীচু করিয়া অপরাধ-আশঙ্কায় ছুটিয়া পলাইয়৷ যাইত । বস্তুত গুরুগৃহে ঋষিবালকদের যে ভাবে কঠোর সংযমে দিন কাটিবার কথা আমাদের ঠিক সে ভাবে কাটে নাই। আমার বিশ্বাস, সাবেক কালের তপোবন অন্বেষণ করিলে আমাদের মত ছেলে যে মিলিত না তাহা নহে ; তাহারা খুব যে বেশি ভালমানুষ ছিল তাহার প্রমাণ নাই। শারদ্বত ও শাঙ্গ রবের বয়স যখন দশ বারো ছিল তখন তাহারা কেবলি বেদমন্ত্র উচ্চারণ করিয়া