পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


& 8 জীবন-স্মৃতি । যদ্বায়রম্বিষ্টমৃগৈঃ কিরাতৈ রাসেব্যতে ভিন্ন শিখণ্ডিবর্হঃ– এই শ্লোকটি পড়িয়া একদিন মনের ভিতরটা ভারি মাতিয়া উঠিয়াছিল। আর কিছুই বুঝি নাই—কেবল “মন্দাকিনীনির্বারশীকর” এবং “কম্পিতদেবদারু” এই দুইট কথাই আমার মন ভুলাইয়াছিল। সমস্ত শ্লোকটির রস ভোগ করিবার জন্য মন ব্যাকুল হইয় উঠিল। যখন পণ্ডিত মহাশয় সবটার মানে বুঝাইয় দিলেন তখন মন খারাপ হইয়া গেল। মৃগঅন্বেষণতৎপর কিরাতের মাথায় যে ময়ূরপুচ্ছ আছে বাতাস তাহাকেই চিরিয়া চিরিয়া ভাগ করিতেছে এই সূক্ষতায় আমাকে বড়ই পীড়া দিতে লাগিল। যখন সম্পূর্ণ বুঝি নাই তখন বেশ ছিলাম । নিজের বাল্যকালের কথা যিনি ভাল করিয়া স্মরণ করিবেন তিনিই ইহা বুঝিবেন যে আগাগোড়া সমস্তই সুস্পষ্ট বুঝিতে পারাই সকলের চেয়ে পরম লাভ নহে। আমাদের দেশের কথকের এই তত্ত্বটি জানিতেন—সেইজন্য কথকতার মধ্যে এমন অনেক বড় বড় কানভরাট-করা সংস্কৃত শব্দ থাকে এবং তাহার মধ্যে এমন তত্ত্বকথাও অনেক নিবিষ্ট হয় যাহা শ্রোতার কখনই সুস্পষ্ট বোঝে না কিন্তু আভাসে পায়—এই আভাসে পাওয়ার মূল্য অল্প নহে । র্যাহারা শিক্ষার হিসাবে জম খরচ থতাইয় বিচার করেন তাহারাই অত্যন্ত কষাকষি করিয়া দেখেন যাহা দেওয়া গেল তাহা বুঝা গেল কি না । বালকেরা, এবং যাহারা অত্যন্ত শিক্ষিত নহে তাহার। জ্ঞানের যে প্রথম স্বর্গলোকে বাস করে সেখানে মানুষ না বুঝিয়াই পায়—সেই স্বর্গ হইতে যখন পতন হয় তখন বুঝিয় পাইবার দুঃখের দিন আসে। কিন্তু একথাও সম্পূর্ণ সত্য নহে। জগতে, ন বুঝিয়া পাইবার রাস্তাই সকল সময়েই সকলের চেয়ে বড় রাস্তা । সেই রাস্ত একেবারে বন্ধ হইয়া গেলে সংসারের পাড়ায় হাটব জার বন্ধ হয় না বটে কিন্তু সমুদ্রের ধারে যাইবার উপায় আর থাকে না, পৰ্ব্বতের শিখরে চড়াও অসম্ভব হইয় উঠে । তাই বলিতেছিলাম, গায়ত্রীমন্ত্রের কোনো তাৎপৰ্য্য আমি সে বয়সে যে