পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হিমালয় যাত্রা । ( & বুঝিতাম তাহা নহে কিন্তু মানুষের অন্তরের মধ্যে এমন কিছু একটা আছে সম্পূর্ণ না বুঝিলেও যাহার চলে। তাই আমার একদিনের কথা মনে পড়ে— আমাদের পড়িবার ঘরে শানবাঁধান মেজের এক কোণে বসিয়া গায়ত্রী জপ করিতে করিতে সহসা আমার দুই চোখ ভরিয়া কেবলি জল পড়িতে লাগিল । জল কেন পড়িতেছে তাহা আমি নিজে কিছুমাত্রই বুঝিতে পারিলাম না । অতএব কঠিন পরীক্ষকের হাতে পড়িলে আমি মূঢ়ের মত এমন কোনো একটা কারণ বলিতাম গায়ত্রীমন্ত্রের সঙ্গে যাহার কোনই যোগ নাই। আসল কথা, অস্তরের অন্তঃপুরে যে কাজ চলিতেছে বুদ্ধির ক্ষেত্রে সকল সময়ে তাহার খবর আসিয়া পৌছায় না । হিমালয় যাত্রা । পৈতা উপলক্ষ্যে মাথা মুড়াইয়া ভয়ানক ভাবন হইল ইস্কুল যাইব কি করিয়া । গেজাতির প্রতি ফিরিঙ্গির ছেলের আন্তরিক আকর্ষণ যেমনি থাক্‌ ব্রাহ্মণের প্রতি ত তাহদের ভক্তি নাই । অতএব নেড়ামাথার উপরে তাহারা আর কোনো জিনিষ বৰ্মণ যদি নাও করে তবে হাস্তবৰ্মণ ত করিবেই। এমন দুশ্চিন্তার সময়ে একদিন তেতলার ঘরে ডাক পড়িল । পিতা জিজ্ঞাসা করিলেন আমি তাহার সঙ্গে হিমালয়ে যাইতে চাই কি না । “চাই” এই কথাটা যদি চীৎকার করিয়া আকাশ ফাটাইয়া বলিতে পারিতাম তবে মনের ভাবের উপযুক্ত উত্তর হইত। কোথায় বেঙ্গল একাডেমি আর কোথায় হিমালয় ! বাড়ি হইতে যাত্রা করিবার সময় পিতা তাহার চিররীতিঅনুসারে বাড়ির সকলকে দালানে লইয়া উপাসনা করিলেন । গুরুজনদিগকে প্রণাম করিয়া পিতার সঙ্গে গাড়িতে চড়িলাম। আমার বয়সে এই প্রথম আমার জন্য পোষাক তৈরি হইয়াছে। কি রঙের কিরূপ কাপড় হইবে তাহ পিতা স্বয়ং আদেশ করিয়া দিয়াছিলেন। মাথার জন্য একটা জরির-কাজ-কর গোল মক্‌মলের টুপি হইয়াছিল। সেটা আমার হাতে ছিল, কারণ নেড়ামাথার উপর টুপি