পাতা:জোড়া পাপী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

জোড়া পাপী।

১১

গাড়ীতে আরোহণ করিলাম, এবং গাড়ী ছাড়িবার দশ মিনিট পূর্বে হাওড়া স্টেশনে উপস্থিত হইলাম। তখনই একখানা সেকেণ্ডক্লাসের টিকিট কিনিয়া যথাস্থানে গিয়া উপবেশন করিলাম। যথা সময়ে গাড়ী হাওড়া স্টেশন ত্যাগ করিয়া অতি দ্রুতবেগে অগ্রসর হইতে লাগিল এবং একে একে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাত আটটা ষ্টেশন ছাড়িয়া একেবারে শ্রীরামপুরে গিয়া থামিল।

 সন্ধ্যার সময় গাড়ীখানি চন্দননগর ষ্টেশনে আসিয়া উপস্থিত হইল। ষ্টেশনে নামিয়া একজন রেলওয়ে কুলিকে হাটখোলার কথা জিজ্ঞাসা করিলাম। পরে তাহারই নির্দিষ্ট পথে যাইবার জন্য মনস্থ করিলাম। ষ্টেশন হইতে বাহির হইতেছি, এমন সময় একজন যুবক আমার নিকট আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “মহাশয় কি হাটখোলায় যাইবেন?”

 সহসা এক অপরিচিত যুবকের মুখে ঐ প্রশ্ন শুনিয়া আমি বিস্মিত হইলাম। পরে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনি কেমন করিয়া সে কথা জানিতে পারিলেন?”

 ঈষৎ হাসিয়া যুবক বলিল, “আপনি যখন সেই কুলিকে জিজ্ঞাসা করিতেছিলেন, আমি তখন তথায় দাঁড়াইয়া ছিলাম। আপনি তাহাকে হাটখোলার কথা জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন সেই জন্যই আমার অনুমান, আপনি ঐ স্থানেই যাইতে ইচ্ছা করেন।”

 যুবকের কথায় আমি আন্তরিক লজ্জিত হইলাম, আমি যখন হাটখোলার কথা জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম, তখন আমার কথাগুলি কিছু উচ্চৈস্বরে উচ্চারিত হইয়াছিল, সুতরাং সে কথা যে, নিকটস্থ লোকেরা শুনিতে পাইবে তাহাতে আর আশ্চর্য্য কি?