পাতা:জোড়া পাপী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৩৪

দারোগার দপ্তর, ২০৪ সংখ্যা।


নাই। যতদিন বিবাহ হয় নাই, তত কাল সে এক প্রকার ছিল কিন্তু বিবাহের পর তাহার স্বভাব পরিবর্তিত হইল। এদিকে পাড়ার লোকে ও তাহাকে একঘরে করিল। একদিন শুনিলাম, সৌদামিনীকে লোকে উড়ের মেয়ে বলিয়া যৎপরোনাস্তি নিন্দা করিতেছে। এবং সেইদিন হইতে সৌদামিনী কিম্বা কেশব আর কোথাও নিমন্ত্রণ রক্ষা করিতে যায় না।”

 আমি আশ্চর্যান্বিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “সত্যই তিনি উৎকলসাসীর কন্যা?”

 নরেন্দ্রনাথ ঈষৎ হাসিয়া বলিলেন, “আজ্ঞে না—তাঁহার পিতা বহু দিন উড়িষ্যায় বাস করিয়াছিলেন, এই অপরাধে তাহাকে জাতিচ্যুত হইতে হইয়াছিল।

 আ। কেশববাবু কি তাহার কোন প্রতিবাদ করেন নাই?

 ন। কিছুমাত্র না—তিনি স্বয়ংই ঐ কথা লোকের নিকট বলিয়া বেড়াইতেন।

 আ। আমাকে কেশবচন্দ্রের বাড়ীটা দেখাইয়া দিন।

 নরেন্দ্রনাথ সম্মত হইলেন। অনেকদূর যাইবার পর নরেন্দ্রনাথ অনতিদূরে একখানি ক্ষুদ্র অট্টালিকা প্রদর্শন করিয়া বলিলেন, “ঐ যে কেশবচন্দ্র দরজায় দাঁড়াইয়া?”

 আমি সেইদিকে গমন করিলাম এবং কেশবচন্দ্রকে সবলে ধারণ করিয়া বলিল, “কি মহাশয়! আমাকে চিনিতে পারেন?”

 আমার কণ্ঠস্বরে কেশব চমকিত হইলেন, তিনি আমার আপাদমস্তক লক্ষ্য করিলেন। পরে অতি বিমর্ষভাবে বলিয়া উঠিলেন, “কি সর্ব্বনাশ, আপনি এখনও জীবিত আছেন?”

 আমি সে কথা গ্রাহ্য করিলাম না। সম্মুখেই একগাছি বড়