পাতা:ঝাঁশির রাণী - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ঝাঁশির রাণী ।

অনুমতি দিলেন। রামচন্দ্র-রাশুর মৃত্যু হইলে, তাহার পত্নী স্বীয় ভাগিনেয়। কৃষ্ণরাও নামক একটা বালককে দত্তক গ্রহণ করেন, কিন্তু ব্রিটিশ-সরকার অশাস্ত্রীয়তা-মূলে ইহার দত্তক-বিধান অগ্রাহ্য করিয়া রামচন্দ্রের পিতৃব্যের এক ঔরসপুত্র তৃতীয় রঘুনাথ-রাওকে ঝাশির গদিতে স্থাপন করিলেন।

 তৃতীয় রঘুনাথরাও অত্যন্ত দুর্বাসনী ছিলেন। তিনি ভোগবিলাসে বিপুল অর্থ অপব্যয় করিয়া ঋণগ্রস্ত হইয়া, ঝাঁশির অধিকাংশ ভূসম্পত্তি গোয়ালিয়র ও বোছার মহাজনদিগের নিকট বন্ধক রাখিতে বাধ্য হইয়া- ছিলেন। ইহা দেখিয়া ব্রিটিশ-সরকার, ১৮৩৭ খৃষ্টাব্দে, ঝাশি-রাজ্যের কার্যভার নিজ হস্তে গ্রহণ করেন। তৃতীয় রঘুনাথ রাওর মৃত্যু হইলে, বঁশির গদি অধিকার করিবার জন্য তিন চারিজন দাবীদার খাড়া হইল। তন্মধ্যে, ব্রিটিশ-সরকার শিবরাও-ভাউর পুত্র গঙ্গাধর-রাওর দাবী মঞ্জুর করিয়া তাহা- কেই গদিতে স্থাপন করিতে কৃতসংকল্প হইলেন। কিন্তু যে পর্যন্ত ঝুঁশি- রাজ্যের ঋণ পরিশোধ না হয় সে পর্যন্ত ইংরাজ-সরকারের নিযুক্ত সুপারি-প্টেন্টে রাজকার্য নির্বাহ করিবেন, এইরূপ স্থির হইল। তদনুসারে ১৮৪২ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত সমস্ত ঋণ কর্জের হিসাব নিষ্পত্তি হইল; এবং ২৩ ডিসেম্বর, ১৮৪২ খৃষ্টাব্দের মধ্যে বুলেখণ্ডের পোলিটিক্যাল এজেণ্ট—উইলিয়ামহের সীম্যান সাহেব, গঙ্গাধর-বাওর সহিত একটা লেখাপড়া করিয়া, বুন্দেলখণ্ডস্থ ইংরাজ-সৈন্যের ব্যয় নির্বাহার্থ ২,২৭,৪৫৮ টাকা আয়ের একটা প্রদেশ লইয়া, গঙ্গাধর-রাওকে ঝাশির আধিপত্য প্রদান করিলেন। এই মহারাজা গঙ্গাধর-রাও, মহারাণী লক্ষ্মীবাই-সাহেবের ভাবী পতি।

 

রাণীর বাল্য-বৃত্তান্ত।

 মহারাষ্ট্র মধ্যে সাতারার নিকটবর্তী কৃষ্ণানদী তীরে ‘বাই' নামক একটা গ্রাম আছে। তথায় কৃষ্ণরাও নামক একটী ‘কহাডে’ ব্রাহ্মণ বাস