পাতা:ঝাঁশির রাণী - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ঝাঁশির রাণী।

করিতেন। ইনি পেশোয়া-সরকারাধীনে মামলৎদারী কাজ করিতেন। বলবন্ত নামক ইহার একটা বীৰ্য্যশালী পুত্র ছিল। মহারাষ্ট্র-প্রভু শ্রীমন্ত। পেশোয়া, কৃপা করিয়া ইহাকে আপনার খাশ-ফৌজের মধ্যে সরদারী-পদ প্রদান করেন। বলবন্তের দুই পুত্র মোরোপন্ত ও সদাশিব-রাও। ইহাদের মধ্যে, মোরোপন্ত, পিতার সঙ্গে পুণায় বাস করিতেন। ইনি, শ্রীমন্ত দ্বিতীয় বাজীরাও-সাহেবের সহোদর চিমাজী-আপ্পা-সাহেবের প্রসন্ন দৃষ্টিতে পড়িয়াছিলেন। ১৮১৮ খৃষ্টাব্দে শ্রীমন্ত বাজীরাও ম্যাকম সাহেবের নিকট সমস্ত রাজ্যের ত্যাগ-পত্র লিখিয়া দিয়া, ৮ লক্ষ টাকার বার্ষিক বৃত্তি গ্রহণে স্বীকৃত হইয়া, অবশিষ্ট জীবিত-কাল ব্ৰহ্মবিত্ত (বিটুর) প্রদেশে অতিবাহিত করিবেন, এইরূপ স্থির করেন। এই সময়ে, আপ্পা-সাহেব দক্ষিণ-"প্রদেশে অবস্থিতি করিতেছিলেন। পুণার রেসিডেন্ট সাহেব, তাঁহাকে বলিলেন, “দশ বিশ লক্ষ টাকার প্রদেশ তোমাকে দিতেছি, তুমি পুণা-রাজ্যের সংরক্ষণ-ভার গ্রহণ কর।” কিন্তু ইহাতে চিমাজী-আপ্লা- সাহেব সম্মত হইলেন না। পরে তিনি কাশীবাস করিবার ইচ্ছা প্রকাশ করায়, ইংরাজ-সরকার তাহাকে কাশীতে পাঠাইয়া দিতে স্বীকৃত হইলেন। এই কথা-অনুসারে পেশোয়া-বাজীরাওর ছয়মাসকাল পরে, ইনিও রাজ্যত্যাগী হইয়া কাশীধামে গিয়া বাস করিলেন। ইহার সমভি- ব্যাহারে যে সকল লোকজন যায়, তাহার মধ্যে মোরোপন্ত একজন। মোরোপত্তও সপরিবারে কাশীধামে গিয়া বাস করিলেন। ইনি শ্রীমন্ত। আপ্পাজীর দেওয়ানী পদে নিযুক্ত হইয়া ৫০ টাকা মাসিক বেতন পাইতেন। মোরাপন্তের পত্নীর নাম ভাগীরথী বাই। ইনি অতি সাধ্বী ও পতিপ্রাণ ছিলেন। ইনি, কাশীধামে অবস্থিতি কালে ১৮ নবেম্বর ১৮৩৫ খৃষ্টাব্দে একটা কন্যারত্ন প্রসব করেন। এই কন্যার নাম—মনুবাই। বলা বাহুল্য, ইনিই ঝশির ভাবী মহারাণী অতুলবীৰ্য্যবর্তী শ্রীমতী লক্ষ্মী বাই।

 মনুবাইর বয়ঃক্রম তিন ও চারি বর্ষ না হইতেই ইহার মাতৃদেবী পর-