পাতা:ঝাঁশির রাণী - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৪

ঝাঁশির রাণী।

এবং রাণীর যে সকল আত্মীয় কুটুম্ব আছে তাহাদিগের জন্য বৃত্তি নির্ধারণ করিয়া একটা তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এই পত্রের উত্তরে লর্ড ডেলহৌসী তাহার মন্তব্য লিখিয়া পাঠাইলেন; এবং ম্যালকম-সাহেবের অন্যান্য প্রস্তাব গ্রাহ্য করিয়া কেবল এক বিষয়ে অনভিমত প্রকাশ করিলেন। তিনি বলিলেন, রাজ্যের জহরৎ ও নিজস্ব সম্পত্তি দত্তক পুত্রের প্রাপ্য, দত্তকপুত্র যাবৎ বয়ঃপ্রাপ্ত না হয় তাবৎ তাহা গচ্ছিত থাকিবে। আইনানুসারে রাজার গৃহীত দত্তকপুত্র রাজাধিকারী না হইলেও, মহা- রাজের নিজস্ব সম্পত্তির সে যে অধিকারী তাহাতে সন্দেহ নাই। এই পত্র পাইয়া ম্যালকম-সাহেব, কেল্লার অভ্যন্তরস্থ রাজবাটী হইতে জহরৎ ও নগদ তহবিলের টাকা উঠাইয়া আনিয়া সহরের রাজবাটাতে গিয়া রাণী ঠাকুরাণীর জিম্মা করিয়া দিলেন এবং রাণীকে সহরের রাজবাটা ছাড়িয়া দিয়া, কেল্লার রাজবাটী ও সমস্ত কেল্লা, ইংরাজ-সরকারের তরফে অধিকার করিলেন।

 এদিকে ব্রিটিশ-সরকারের ন্যায়নিষ্ঠার উপর রাণী-ঠাকুরাণীর অগাধ ‘বিশ্বাস থাকায়, তিনি এই সামান্য ৫০০০ টাকার বৃত্তি গ্রহণে অস্বীকৃত হইলেন এবং সমস্ত ঝাঁশি-রাজ্য যাহাতে পুনৰ্বার ফিরিয়া পান তজ্জন্য বিধিমতে উদ্যোগ করিতে লাগিলেন। তিনি উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় নামক একজন বাঙ্গালী ও আর একজন য়ুরোপীয়কে ৬০০০০ টাকা দিয়া এবং তৎসঙ্গে একটা দরখাস্ত দিয়া, বিলাতের কোর্ট অফ ডিরেক্টরের নিকট পাঠাইয়া দিলেন। এই দরখাস্তের মধ্যে, একস্থলে এইরূপ লেখা হয় যে, “ইংরাজ-সরকার আমাদিগকে ঝাঁশি-রাজ্য দান করেন নাই; পেশোয়ার রাজত্বকালে আমাদের পূর্বপুরুষেরা অনেক পরাক্রমের কার্য্য করায়, তাহাদের নিজ বাহাদুরী-বলেই উহা অর্জন করিয়াছিলেন—অত- এব উহাতে ইংরাজ-সরকারের কোন অধিকার নাই।” এই দরখাস্ত লইয়া, ঐ দুই মোক্তার বিলাতে গিয়া যে কি করিলেন, তাহার বার্তা