পাতা:ঝাঁশির রাণী - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

২৪

ঝাঁশির রাণী।

“খোদার মুলুক, বাদশার মুলুক, রাণী লক্ষ্মীবাইর আমল,” এই দোহাই দিয়া বিদ্রোহীরা দিল্লি, নৌগাঙ্গ প্রভৃতি স্থানাভিমুখে যাত্রা করিল।

 এই সময়ে রাণীঠাকুরাণীর অধীনে, চতুর রাজনীতিজ্ঞ ব্যক্তি কেহই ছিল না। ঝাঁশি খাস হইয়া গেলে, অনেক ভাল ভাল লোক ঝাঁশি হইতে বিদায় হইয়া যায়। এক্ষণে, কোন গুরুতর রাষ্ট্রীয় কাজ উপস্থিত হইলে সুপরামর্শ দিবার কেহই ছিল না। রাণী স্বয়ং কুশগ্রবুদ্ধি ও চতুর ছিলেন বটে, কিন্তু তিনি অন্তঃপুরবাসিনী হওয়ায় অনেক সময় অনেক কথা তাহার গোচর হইত না। তাহার অধীনস্থ অযোগ্য কর্মচারীরা তাহাকে না জানাইয়াই অনেক কাজের নিষ্পত্তি করিত। ইংরাজ সরকার হইতে কোন পত্রাদি আসিলে তাহারা তাহার রীতিমত জবাব দিত না; সুতরাং রাণীঠাকুরাণীর প্রকৃত উদ্দেশ্য ও মিত্রভাব ইংরাজদিগের গোচর হইত না। ইহা হইতে অনেক অনর্থের উৎপত্তি হইয়াছিল। একজন ইংরাজী-জানা শিরেস্তাদার পূর্বে ছিল, প্রধান কর্মচারীরা তাহাকে কর্ম্ম- চ্যুত করায় আরও গণ্ডগোল ও কাজের বেবন্দবস্ত আরম্ভ হইল। রাণী মনে করিতেন,তঁহার অভিপ্রায়-অনুসারে পত্রাদি লিখিত হইয়া ইংরাজ- সরকারের নিকট যাইতেছে, অথচ সেরূপ কিছুই হইত না। এই গণ্ড- গোলের মধ্যেও, দুই একটা পত্র বোধ হয় ইংরাজ-সরকারের নিকট পৌছিয়াছিল। কারণ, ঝুঁশির কমিশনর পিকূলে সাহেব স্পষ্ট লিখিয়া- ছেনঃ—“খুব বিশ্বস্ত সূত্র হইতে অবগত হওয়া গিয়াছে, রাণী আমাদিগের স্বদেশীয়দিগের হত্যাকাণ্ডে দুঃখ প্রকাশ করিয়া জব্বলপুরের কমিশনরকে পত্র লিখেন এবং এইরূপ পত্রাদি লিখিয়া তিনি ইংরাজ-সরকারের সহিত মিত্রভাব রক্ষা করিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন। তিনি আরও এইরূপ লেখেন যে, সেই হত্যাকাণ্ডে তাহার কোন হাত ছিল না এবং যাবৎ না ইংরাজ-সরকার ঝাঁশি পুনরধিকার করিবার বন্দবস্ত করিবেন, তাবৎ কঁশি রাজ্য রাণী তাঁহার নিজ দখলে রাখিবেন। এতদ্ব্যতীত, এই পত্র