পাতা:ঝাঁশির রাণী - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ঝাঁশির রাণী।

৩১

কাগজের তাড়া লইয়া দণ্ডায়মান ও তাহার কিঞ্চিৎদূরে হজুর-মুন্সি উপবিষ্ট থাকিত। কুশাগ্রবুদ্ধি রাণীঠাকুরাণী, উপস্থিতকার্য্যসম্বন্ধীয় বৃত্তান্ত তৎক্ষণাৎ বুঝিয়া লইয়া তাহার হুকুম মুখে-মুখে বলিয়া দিতেন, কিম্বা কখন কখন নিজ হস্তে লিখিয়া দিতেন। ফৌজদারী ও দেওয়ানী বিচার অতীব দক্ষতাসহকারে নিষ্পন্ন করিতেন।

 শ্রীমহালক্ষ্মী দেবীর উপর রাণীর প্রগাঢ় ভক্তি ছিল। তিনি প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবারে, স্বীয় দত্তকপুত্রকে সঙ্গে লইয়া, সন্ধ্যাকালে সরোবর-মধ্যস্থিত মন্দিরে, মহালক্ষ্মী দর্শনে যাত্রা করিতেন। সরোবরে সুন্দর সুন্দর কমল ফুটিয়া থাকিত, তাহাতে সে স্থানের রমণীয় শোভ হইত। তিনি কখন পাল্কীতে চড়িয়া, কখন বা অশ্বপৃষ্ঠে, দেবীদর্শনে যাত্রা করিতেন। যে সময়ে তিনি পাল্কীতে আরোহণ করিতেন, কিস্তাব কাপড়ের জরির পর্দা দিয়া পাল্কী ঢাকিয়া দেওয়া হইত। রাণীঠাকুরাণী যখন অশ্বপৃষ্ঠে গমন করিতেন, তখন তাহার উষ্ণীয-বিলম্বিত জরির অঞ্চল পৃষ্ঠোপরি দোদুল্যমান হইয়া মনোহর শোভা বিকাশ করিত। যখন প'ল্কী-সোয়ারীতে যাইতেন, তখন পাল্কীর খুর ধরিয়া চার পাঁচ জন দাসী, মহা ধুমধামে চলিত। এই দাসীরা পরিচ্ছদাগারে প্রবেশ করিয়া সুবর্ণ রত্নের অলঙ্কার ও জরির চোলি অঙ্গে ধারণ করিত এবং সবুজ, লাল ও ছাই রঙের শাড়ি ও পায়ে চর্ম্মপাদুকা পরিধান করিত; এক হস্তে রৌপ্য কিম্বা স্বর্ণদণ্ডের চামর লইয়া ও আর এক হস্তে পাল্কী ধরিয়া, বাহকদের সঙ্গে সঙ্গে দৌড়িয়া বাইত। সেই সময়ে, এই অবিবাহিত সৰ্বালঙ্কার-ভূষিত দাসীদিগকে অতি চমৎকার দেখিতে হইত। সোয়ারীর সম্মুখভাগে ডঙ্কা নিশান প্রভৃতি থাকায় রণবাদ্য বাজিতে থাকিত। নিশানের পশ্চাতে প্রায় দুই শত আফগান পদাতিক ও সোয়ারীর সম্মুখে ও পশ্চাতে প্রায় একশত ঘোড়শোয়ার যাইত। পাল্কীর সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের প্রধান কর্মচারী ও আশ্রিত- মণ্ডলী অশ্বপৃষ্ঠে কিম্বা পদব্রজে যাইতেন—তাহাদের সঙ্গে অনুচরবর্গও