পাতা:ঝাঁশির রাণী - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৪৬

ঝাঁশির রাণী।

তাহারা বিজয়ানন্দে বিস্ফরিত হইয়া মনে করিতেছিল, পেশোয়ার সৈন্যের নিকট ইংরাজ-সৈন্যের কিসের যোগ্যতা! যাহা হউক, এই সাহায্য যথাসময়ে আসিয়া পড়ায়, ঝশি-রক্ষণের বল অনেক পরিমাণে বৃদ্ধি হইল এবং ইংরাজদিগের বিজয়পথ কণ্টকাকীর্ণ হইয়া উঠিল।

 এদিকে, স-হিউ-রোজ তাত্যা-টোপের আগমন-বার্তা অবগত হইবা- মাত্র, কোন প্রকার গোলযোগ না করিয়া, অতি শান্তভাবে, ৩১ তারিখের রাত্রে, প্রথম ব্রিগেডের সৈন্যদল হইতে কতকগুলা হাতি আনাইয়া, ২৪ পৌণ্ডের দুই তোপ, বোচ্ছার রাস্তার উপর স্থাপন করিলেন, এবং সেখান হইতে সহরে যাইবার রাস্তা একেবারে বন্ধ করিয়া ফেলিলেন।

 তাত্যা-টোপে একজন সুচতুর বীরপুরুষ ছিলেন। বিদ্রোহসময়কার বিলাতী “ডেলিনিউস” পত্রে, তাহার এইরূপ বর্ণনা প্রকাশিত হয়

 “তাত্যা মহারাষ্ট্রীয় ব্রাহ্মণ—উচ্চ বংশের নহে। তাহাতে দস্যুবৃত্তির লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাহার চাতুবুদ্ধি বিলক্ষণ আছে, কিন্তু বিদ্যাবুদ্ধি কিছুমাত্র নাই। তিনি লেখা-পড়া জানেন না কিন্তু সিপাহীগিরি কাজে খুব মজবুৎ। ইহার জন্য তাহার উপর, তাহার অনুচরবর্গের অচলা নিষ্ঠা। তাঁহার দেহের গঠন সুদৃঢ় হৃষ্ট-পুষ্ট ও সতেজ। নৈতিক প্রভাব অপেক্ষা বাহুবলের প্রতাপে তিনি অন্যের মনে উৎসাহ ও বল সঞ্চার করেন। ইংরাজেরা যে সমর-বিদ্যায় কুশল, ইহা তিনি বিলক্ষণ অবগত আছেন। এই জন্য, সমরক্ষেত্রে ইংরাজদিগের সহিত সম্মুখযুদ্ধ না করিয়া, তাহাদিগকে অনুধাবন করিয়া ক্লান্ত করিতে তাহার ভাল লাগে। তাঁহার বয়ঃক্রম ৪০ বৎসর। তিনি অত্যন্ত দুর্দান্ত বেগশালী তেজীয়ান ও সাহসী। তাঁহার শৌর্যযুক্ত সতেজ সুন্দর মুখশ্রী। তাঁহার দৃষ্টি চপল ও উগ্র। -যুগল ধনুকাকার, কপাল উচ্চ ও সরল, নাসিকা গরুড় পক্ষীর ন্যায়, মুখ ছোট, ঠোট চাপা, দাত ধধপে সাদা, গোঁফ কালো ও দেহ-বর্ণ ঘনশ্যামল। কেতাদুরস্ত অপেক্ষা দেহরক্ষণোপযোগী