পাতা:ঝাঁশির রাণী - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৬২

ঝাঁশির রাণী।

প্রভৃতি সর্দার কে কোথায় পলাইতে লাগিল, তাহার ঠিকানা নাই। ইংরাজ সওয়ারেরা তাহাদিগকে অনুধাবন করিয়া প্রায় দুই শত লোক পাড়াও করিয়া আনিল এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে তাহাদিগের প্রাণনাশ করিল।

 রাণীঠাকুরাণীর পিতা ও মুখ্যকৰ্মচারী—মোরোপন্ত-তাবে, হস্তি- পৃষ্ঠে রত্ন-ভার বোঝাই করিয়া সেই হস্তীর সঙ্গে সঙ্গে, ঘোড়ায় চড়িয়া পলাইতেছিলেন। পথিমধ্যে, রাত্রির অন্ধকারে, নিজের, তলোয়ারের খোঁচা নিজের জঘায় লাগিয়া গেল। তাহাতে ভয়ানক রক্তস্রাব হইয়া তাহার সমস্ত পায়জামা ভিজিয়া যাইতে লাগিল, তথাপি তিনি ঘোড়ার রেকাবের উপর ভর দিয়া ছুটিতে লাগিলেন; প্রভাত সময়ে, “দতিয়া” সহরের নিকট আসিয়া পৌঁছিলেন। দতিয়ার রাজা ইংরাজের মিত্র। মোরপন্ত সমস্ত রাত্রি অশ্বপৃষ্ঠে ধাবমান হওয়ায় অত্যন্ত শ্রান্ত হইয়া পড়িয়া- ছিলেন, তাহাতে আবার জম্যাদেশে বিষম আঘাত লাগিয়া রক্তধারায় পরিচ্ছদাদি আপ্লুত হইয়াছিল—সুতরাং নিরুপায় হইয়া সহরের দরজার নিকট আসিয়া তত্রস্থ একজন খিলি-ওয়ালার নিকট, দীনবচনে আশ্রয় চাহিলেন এবং তাহাকে কিছু টাকা দিতেও স্বীকৃত হইলেন। তাম্বুল- বিক্রেতা তাঁহাকে আশ্রয় দিয়া আপনার ঘরে রাখিল। এই কথা, দতিয়া-রাজ্যের দেওয়ান জানিবামাত্র তৎক্ষণাৎ সৈন্য পাঠাইয়া তাহাকে ধরিয়া আনাইয়। কয়েদ করিলেন; এবং তাহার নিকট যাহা কিছু অর্থ- সম্পত্তি ছিল সমস্ত হস্তগত করিয়া, নিজ সৈন্য-সমভিব্যাহারে তাহাকে ঝাঁশিতে পাঠাইয়া দিলেন। সেখানে পৌছিবামাত্র ঝাঁশির প্রধান কর্মচারী সরু-রবর্ট হামিণ্ট ও স-হিউ-রোজ, রাজবাটীর সম্মুখে, দিবা দুইটার সময়, তাঁহাকে ফাঁশি দিলেন। এইরূপে রাণীর পিতা মোয়রাপন্তের ইহলীলা সাঙ্গ হইল।

“তাদৃশী জায়তে বুদ্ধিবসায়ােহপি তাদৃশঃ ।
সহায়স্তাদৃশ এব যাদৃশী ভবিতব্য।"