পাতা:ঝাঁশির রাণী - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ঝাঁশির রাণী।

৬৭

এক্ষণে আর একটি কেল্লা হস্তগত করা আমাদিগের নিতান্ত আবশ্যক। আমরা যেখানেই পলাইতেছি ইংরাজেরা আমাদিগের অনুসরণ করি- এবং কোন প্রকারে আমাদিগকে বিনষ্ট করিবে, এইরূপ স্থির করিয়াছে। যাহা ভবিতব্য তাহা হইবেই। তাহার প্রতি দৃকপাত না করিয়া, এই উপস্থিত বিপদকালে একটা কোন কেল্লা হস্তগত করিয়া ইংরাজদিগের সহিত যুদ্ধে যাহাতে জয়লাভ হয় তাহার উপায় শীঘ্র অবলম্বন করা আবশ্যক।” রাণীঠাকুরাণীর এই বাক্য শুনিয়া, শ্রীমন্ত পেশোয়া বড়ই তুষ্ট হইলেন এবং তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, এখন কোন্কেল্লা হস্তগত করিবার চেষ্টা করা যাইবে রাণীঠাকুরাণী বলিলেন, “উপস্থিত বিপদে ঋশি কিম্বা কাল্পী অধিকার করিবার আশায় শত্রুর সম্মুখ দিয়া যাত্রা করায় ইষ্ট নাই। এই হেতু, গোয়ালিয়ারে যাত্রা করিয়া সিন্ধিয়া-সরকার ও তাহার ফৌজের সাহায্য লওয়া যাউ এবং সেখানকার পাহাড়ী কেল্লার আশ্রয় ধরিয়া আমাদিগের মনোরথ সিদ্ধ করিবার চেষ্টা করা যাউক।” এই কথা রাও-সাহেবের বড়ই মনোনীত হইল এবং তিনি ইহার জন্য রাণীঠাকুরাণীকে অভিনন্দন করিলেন। তাত্যা- টোপেও এই কথায় অনুমোদন করিলেন। তাত্যা টোপে ইতিপূর্ব্বে অনেকবার গোপনে গোয়ালিয়রে গিয়াছিলেন তাই তিনি সিন্ধিয়া-সৈন্যের মনোভাব বিলক্ষণ অবগত ছিলেন। অতএব, এক্ষণে গোয়ালিয়ারে যাত্রা করাই স্থির হইল। রাও-সাহেব ও রাণীঠাকুরাণী সসৈন্যে ১৮৫৪ অব্দের ৩০শে মে তারিখে গোয়ালিয়ারের নিকটস্থ মুৱারের ছাউনীতে আসিয়া পৌছিলেন।

 এই সময়ে শ্রীমন্ত মহারাজ জয়াজীরাও সিন্ধিয়া গোয়ালিয়ারের অধিপতি ছিলেন। এই সময়ে তাহার বয়স প্রায় ২৩ বৎসর ছিল; ইনি প্রায়ই বিলাস সম্ভোগেই নিমগ্ন থাকিতেন; কিন্তু এদিকে, বুদ্ধিমান ও যুদ্ধপ্রিয়ও ছিলেন। তাঁহার সুযোগ্য মন্ত্রী দিনকর-ওই প্রকৃতপক্ষে