পাতা:টুনটুনির বই.djvu/১১৭

উইকিসংকলন থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।


পারবে? আমার পেটে যদি পঞ্চাশ কলসী ঘি মাখানো হয়, তবে আমি উঠে দাঁড়াব।

 চাষীরা তাতে আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘শোন-শোন, হাতি কি বলছে! চল আমরা রাজামশাইকে খবর দিইগে।’ তারা তখুনি রাজার কাছে ছুটে গিয়ে বললে, ‘রাজামশাই, আপনার সেই মরা হাতি বলছে যে তার পেটে পঞ্চাশ কলসী ঘি মাখালে সে আবার উঠে দাঁড়াবে। শীগগির পঞ্চাশ কলসী ঘি পাঠিয়ে দিন।’

 এ কথায় রাজামশাই যে কি খুশী হলেন, কি আর বলব! তিনি বললেন, ‘আমার হাতি যদি বাঁচে পঞ্চাশ কলসী ঘি আর কত বড় একটা কথা! হাজার কলসী ঘি নিয়ে তার পেটে মাখাও। তখুনি হাজার মুটে হাজার কলসী ঘি নিয়ে মাঠে উপস্থিত করল। দুহাজার লোক মিলে সেই ঘি হাতির পেটে মাখাতে লাগল। সাতদিন খালি ‘আনো ঘি’, ‘ঢাল ঘি’ ছাড়া সেখানে আর কোনো কথাই শোনা গেল না।

 সাতদিনের পরে শিয়াল দেখলে যে, হাতির চামড়া ও ঢের নরম হয়েছে, পেটের ফুটোও ঢের বড় হয়েছে, এখন সে ইচ্ছে করলেই বেরিয়ে আসতে পারে; তথন সে সকলকে ডেকে বললে, ‘ভাই সকল, এইবার অামি উঠল। তোমরা একটু সরে দাঁড়া ও নইলে যদি আমি মাথা ঘুরে তোমাদের উপরে পড়ে-টড়ে যাই!’

 তখন ভারী একটা গোলমাল হল! যে যাকে সামলে পাচ্ছে তাকেই ধাক্কা মেরে বলছে, ‘আরে বেটা, শীগগির সর! হাতি উঠছে, ঘাড়ে পড়বে।’

 একথা শুনে কি কেউ আর সেখানে দাঁড়ায়? ঘি-টি সব ফেলে তারা পালাতে লাগল, একবার চেয়েও দেখল না, হাতি উঠেছে কি পড়েই আছে। তা দেখে শিয়াল ভাবলে, ‘এই বেলা পালাই।’ তখন সে তাড়াতাড়ি হাতির পেটের ভিতর থেকে বেরিয়ে দে ছুট।

মজন্তালী সরকার

এক গ্রামে দুটো বিড়াল ছিল। তার একটা থাকত গোয়ালাদের বাড়িতে, সে খেত দই, দুধ, ছানা, মাখন আর সর। আর একটা থাকত জেলেদের বাড়িতে, সে খেত খালি ঠেঙার বাড়ি আর লাথি। গোয়ালাদের বিড়ালটা খুব মোটা ছিল, আর সে বুক ফুলিয়ে চলত। জেলেদের বিড়ালটার গায় খালি চামড়া আর হাড় কখানি ছিল। সে চলতে গেলে টলত আর ভাবত, কেমন করে গোয়ালাদের বিড়ালের মত মোটা হব।

৮—টুনটুলির বই
১১৩