বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১০০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৯৬
ডমরু-চরিত।

 ছোট একখণ্ড কালো মেঘের উপর পিং বসিয়াছিলেন। আমি তাঁহার নিকট গমন করিলাম। দেখ লম্বোদর! তোমরা আমাকে কালো কুৎসিৎ কদাকার বলিয়া উপহাস কর। কিন্তু পিং আমার রূপের মর্য্যাদা জানেন। আমাকে দেখিবামাত্র পিং কি বলিলেন শুন।

 পিং বলিলেন, – “আহা, মহাশয়ের কি রূপ! ঘোর কৃষ্ণবর্ণ, তাহার ভিতর হইতে খড়ি-মাটির আভা বাহির হইতেছে। তাহা দেখিয়া আমার উস্কো খুস্কো পালক আবৃত কাক ভূষণ্ডীকে মনে হইল। বহু কালের প্রাচীন ছেলা পড়া বাঁশের ঝোড়ার ন্যায় মহাশয়ের অস্থি পিঞ্জর দেখা যাইতেছে। দধিপুচ্ছ শৃগালের পর্ব্বত গহ্বরের ন্যায় আপনার দন্তশূন্য মুখগহবর। তাহার দুই ধারে কি দুইটা কাক বসিয়াছিল? ঐ যে ঠোটের দুই কোণে শুভ্রবর্ণের কি রহিয়াছে? আপনার টোল পড়া গাল দুইটা দেখিয়া হনুমানের চড়-প্রহারিত রাবণ-মাতুল কালনেমির গণ্ডদেশ আমার স্মরণ হইল। পঞ্চচুল-পরিবেষ্টিত মস্তকের মধ্যস্থিত বিস্তৃত টাক দেখিয়া আমার মনে হইল, বিধাতা বুঝি পূর্ণচন্দ্রটীকে বসাইয়া তাহার চারিদিকে শুভ্রবর্ণের মেঘ গাঁথিয়া দিয়াছেন। ফল কথা, মহাশয়কে যখন দূরে দেখিলাম, তখন মনে করিলাম যে, ময়ূরে চড়িয়া টাক-চুড়ামণি কেলে–কার্ত্তিক জগৎ আঁধার করিয়া আসিতেছেন।”

 পিঙের সুমিষ্ট স্তবে প্রীতিলাভ করিয়া আমি তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম,—“আমি আকাশে ভ্রমণ করিতে আসিয়াছি। ইহার পর দেখিবার আর কি আছে?”

 পিং উত্তর করিলেন,— সমুদ্রকূলে বালুকা-রেণুর ন্যায় ইহার পর আরও কোটি কোটি ব্রহ্মাণ্ড আছে। কিন্তু ব্রহ্মার কোন অণ্ডই আপনার দেখিবার উপযুক্ত নহে। যাবতীয় ব্রহ্মাণ্ডের ওপারে আপনি গিয়া অশ্বাণ্ড দর্শন করুন।

 আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, – “অশ্বাণ্ড! সে কিরূপ? সে কোথায়?”

 পিং উত্তর করিলেন,—“অল্পদিন হইল ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরের নিকট গিয়া