ধাবিত হইল। অবশেষে দ্বিতীয় দিনের বেলা তিনটার সময় বমন করিতে আরম্ভ করিল। শৈশব কালে মাংসপ্রাশনের সময় হইতে যত মহিষ হরিণ শূকর প্রভৃতি খাইয়াছিল, তাহাদের হাড়গোড় সমুদয় বমন করিয়া ফেলিল। উদ্গারের সহিত আমাকে সে বাহির করিয়া ফেলিল।
কিঞ্চিৎ সুস্থ হইয়া আমার দিকে সে দুই একবার কটমট করিয়া চাহিল। মনে মনে ভাবিল, – “এ লোকটাকে গিলিয়া ভাল কুকর্ম্ম করিয়া- ছিলাম। যেমন রূপ তেমনি গুণ, না আছে রস না আছে কষ! কাল চামড়া মোড়া কেবল খান কতক হাড়। এর চেয়ে যদি দশ মণ পাথুরে কয়লা গিলিতাম, তাহা হইলে কাজ হইত।”
এই প্রকার চিন্তা করিয়া ব্যাঘ্র দ্রুতবেগে সে স্থান হইতে প্রস্থান করিল। পশু! সে আমার রূপের মহিমা কি বুঝিবে?
লম্বোদর বলিলেন,—তা সব হইল। কিন্তু একটা কথা তোমাকে আমি জিজ্ঞাসা করি। ব্যাঘ্রের পেটের ভিতর হইতে তোমার কর্মচারীর নিকট সে চিঠি তুমি কি করিয়া পাঠাইলে?
কিয়ৎক্ষণের নিমিত্ত নীরব থাকিয়া ডমরুধর উত্তর করিলেন,— “দেখ লম্বোদর! সকল কথার খোঁচ ধরিও না। এই মাত্র তোমাকে আমি বলিতে পারি যে, বাঘের পেটের ভিতর ডাকঘর নাই, সে স্থানে টীকিট বিক্রয় হয় না, সে স্থানে মনিঅর্ডার হয় না। তিরিক্ষি মেজাজ ডাক- বাবু সেখানে বসিয়া নাই।' পত্র প্রেরণের সমস্যা এইরূপে হেলায় মীমাংসা করিয়া ডমরুধর পুনরায় বলিতে লাগিলেন,—
বাঘের পেটে কয়দিন আমার উদরে অন্ন জল যায় নাই। আমি অতিশয় দুর্ব্বল হইয়াছিলাম। ব্যাঘ্র চলিয়া গেলে কিছুক্ষণের নিমিত্ত সেই স্থানে নির্জীব হইয়া পড়িয়া রহিলাম। তাহার পর আস্তে আস্তে উঠিয়া এদিক্ ওদিক্ চাহিয়া দেখিলাম। নিকটে একখানি গ্রাম দেখিয়া তাহার ভিতর প্রবেশ করিলাম। গ্রামখানি ছোট, কেবল ইতর লোকের বাস। গ্রামবাসীদিগকে জিজ্ঞাসা করিয়া অবগত হইলাম যে, সে স্থান হইতে