ধাঙ্গড় বলিল,—বিদেশী লোক! গ্রীষ্মকালে মোড়লদের পুকুরে ফেটীজালে কে মাছ ধরিতেছিল? মাঝিনীকে কে এক রাশি চুণো মাছ দিয়াছিল? কেন দিয়াছিলি, তা কি আমি বুঝিতে পারি নাই?
এই কথা বলিয়া আবার দুইটা কিল মারিল।
আমি বলিলাম, আমি কখন ফেটিজালে মাছ ধরি নাই। আমি ভদ্রলোক। মিছামিছি বিনা দোষে আমাকে মার কেন?
ধাঙ্গড় বলিল,—‘ভদ্রলোক! ভদ্রলোকের ঐরকম টাক হয়! ভদ্রলোকের ঐরকম কিম্ভুত কিমাকার চেহারা হয়! আর মাঝিনীর পসন্দ; আমাকে পসন্দ হয় না, তোকে পসন্দ!’
এই কথা বলিয়া সে পুনরায় আর দুইটা কিল মারিল।
আমি দেখিলাম যে, কথা কহিলেই দুইটা করিয়া কিল খাইতে হয়। তাহার পর, দারুণ প্রহার বরং সহ্য হয়, কিন্তু সে যে আমাকে কুৎসিত বলিল, সে কথা আমার প্রাণে সহ্য হইল না। আমি চুপ করিয়া রহিলাম।
কিন্তু নীরব থাকিয়াও নিস্তার পাইলাম না। সে আমাকে উত্তম মধ্যম অধম বিলক্ষণ প্রহার করিল; তাহার পর আমার কাপড় চোপড় কাড়িয়া লইয়া উলঙ্গ করিয়া গলা টিপিয়া সে স্থান হইতে বাহির করিয়া দিল। কেবল মাত্র প্রাণে সে আমাকে মারিল না। আমি উঠিতে পড়িতে উঠিতে পড়িতে মাঠের আল দিয়া চলিলাম। অতি ক্লেশে বহুদূর একখানি গ্রামের নিকট গিয়া উপস্থিত হইলাম। এক তো রাত্রি হইয়াছে, তাহার পর উলঙ্গ, এ অবস্থায় সে গ্রামের ভিতর প্রবেশ করিলাম না। মনে করিলাম যে, প্রাতঃকালে কাহারও নিকট হইতে একখানি ছেঁড়াখোঁড়া গামছা চাহিয়া লইব। সেইখানি পরিয়া আপনার গ্রামে যাইব। নিকটে একটা বাগান দেখিতে পাইলাম। নারিকেল গাছ বেষ্টিত শান বাঁধা ঘাটবিশিষ্ট তাহার ভিতর একটা পুষ্করিণী ছিল। দারুণ প্রহারে শরীরে আমার বিষম বেদনা হইয়াছিল। ঘাটের চাতালে আমি শয়ন করিলাম। ঘোর ক্লেশে নিদারুণ প্রহারে শরীরে আর আমার কিছু