ছল না। অল্পক্ষণ পরেই আমি নিদ্রায় অভিভূত হইয়া পড়িলাম। কখন রাত্রি অবসান হইয়াছিল, তাহা আমি জানিতে পারি নাই। সহসা “ভূত! ভূত!” চীৎকার শুনিয়া আমার নিদ্রা ভঙ্গ হইল। আমি চাহিয়া দেখিলাম যে, প্রাতঃকাল হইয়াছে; সূর্য্য উদয় হইয়াছে। অন্যদিকে চাহিয়া দেখিলাম যে, জন কয়েক স্ত্রীলোক সেই পুষ্করিণীতে জল লইতে আসিয়াছিল। সেই উলঙ্গ অবস্থায় আমাকে দেখিয়া “ভূত! ভূত!” বলিয়া চীৎকার করিতে করিতে পলায়ন করিতেছে। তাহাদের কোমর হইতে কলসী পড়িয়া ভাঙ্গিয়া গেল। কিছু দূরে মাঠ হইতে কয়েক জন পুরুষ মানুষ “কি হইয়াছে, কি হইয়াছে” বলিয়া দৌড়িয়া আসিল।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ।
ডমরুধরের মেমের পোষাক।
আমি ভাবিলাম, আবার বা প্রহার খাইতে হয়। সেই ভয়ে আমি রুদ্ধশ্বাসে দৌড়িলাম। “ঐ যাইতেছে, ঐ যাইতেছে,” বলিয়া কেহ কেহ, আমার পশ্চাৎ পশ্চাৎ ধাবিত হইল। কিছু দূরে গিয়া আমি আর দৌড়িতে পারিলাম না। একস্থানে নিবিড় ভেরাণ্ডার বেড়া ছিল। তাহার ভিতর প্রবেশ করিয়া আমি লুক্কায়িত রহিলাম। আমায় আর দেখিতে না পাইয়া তাহারা ফিরিয়া গেল। যাইতে যাইতে একজন বলিল,—“ভূত কি কখন ধরা যায়? ভূত হাওয়া। এতক্ষণ, কোন্ কালে বাতাসের সহিত মিশিয়া গিয়াছে।”
বেড়ার পার্শ্বে আমি বসিয়া হাঁপাইতেছিলাম; কিঞ্চিৎ সুস্থ হইয়া উঠিয়া বসিলাম। এদিক ওদিক্ চাহিয়া দেখিলাম যে, বেড়ার বাহিরে