আমি কেন একটা ছোট ছুঁড়ীকে জাহির করি নাই, সেই আপসোসে আমার বুক ফাটিয়া যাইতে লাগিল।
এইরূপ দুঃখে আছি, এমন সময় একজন চেলা সন্ন্যাসীর হাত ধরিয়া আমার বাড়ীতে আনিয়া উপস্থিত করিল। সন্ন্যাসী বলিল যে, নিভৃতে তোমার সহিত কোন কথা আছে। আমি, সন্ন্যাসী ও তাহার চেলা একটা ঘরে যাইলাম। সন্ন্যাসী বলিল যে ট্যাক্স বন্ধ হইয়া গিয়াছে, সে জন্য নিশ্চয় তোমার মনে সন্তাপ হইয়াছে, কিন্তু দুঃখ করিও না, অন্য উপায়ে তোমাকে আমি বিপুল ধনের অধিকারী করিব। একটী টাকা দাও দেখি!
সন্ন্যাসীর হাতে আমি একটী টাকা দিলাম। সেই টাকাটীকে তৎক্ষণাৎ দ্বিগুণ করিয়া দুইটী টাকা সন্ন্যাসী আমার হাতে দিল। তাহার পর সন্ন্যাসীর আদেশে ভিতর হইতে একটী মোহর আনিয়া দিলাম, তাহাও ডবল করিয়া দুইটী মোহর সন্ন্যাসী আমার হাতে দিল। শেষে একখানি দশ টাকার নোটও ডবল করিয়া আমার হাতে দিল।
তাহার পর সন্ন্যাসী আমাকে বলিল,—“এ কাজ অধিক পরিমাণে করিতে গেলে পূজা-পাঠের আবশ্যক। তোমার ঘরে যত টাকা, মোহর, নোট, সোণা রূপা আছে, পূজা-পাঠ করিয়া সমুদয় আমি ডবল করিয়া দিব।”
আমি উত্তর করিলাম, “সন্ন্যাসী ঠাকুর! আমি নিতান্ত বোকা নই। এরূপ বুজরুকির কথা আমি অনেক শুনিয়াছি। গৃহস্থের বাড়ী গিয়া দুই একটী টাকা অথবা নোট ডবল করিয়া তোমরা গৃহস্বামীর বিশ্বাস উৎপাদন কর। তোমাদের কুহকে পড়িয়া গৃহস্বামী ঘরের সমুদয় টাকা কড়ি গহনা পত্র আনিয়া দেয়। হাঁড়ী অথবা বাক্সের ভিতর সেগুলি বড় করিয়া তোমরা পুজা কর। পূজা সমাপ্ত করিয়া সাত দিন কি আট দিন পরে গৃহস্বামীকে খুলিয়া দেখিতে বল। সেই অবসরে তোমরা চম্পট দাও। সাত আট দিন পরে গৃহস্বামী খুলিয়া দেখে যে, হাঁড়ি ঢন্ ঢন্। বাজিকরের ও–চালাকি আমার কাছে খাটিবে না।”
সন্ন্যাসী বলিল,―“পুজা–পাঠ করিয়া আমি চলিয়া যাইব না। তোমার