টাক, টাক টাকেশ্বর—ডুক ভুরু ডুক।” ডুরু ডুরু মানে ডমরু! আমার নামটা ছোড়া সংক্ষেপ করিয়াছে।
পরীক্ষিৎ ঘোষের কাছে তাহার ছেলের দৌরাত্ম্যের বিষয় একবার আমি নালিশ করিয়াছিলাম। সে আমাকে জিজ্ঞাসা করিল,—“কেষ্টা কি আপনার দিকে চাহিয়া ওসব কথা বলে?”
ছোড়া কি করে মনে মনে চিন্তা করিয়া আমি উত্তর করিলাম, “না। সে আমার দিকে চাহিয়া বলে না। কখন উপর দিকে চাহিয়া এসব কথা বলে, কখন বা গাছ পালার দিকে চাহিয়া বলে, কখন বা আকাশ পানে দুইটা পা করিয়া মাটির দিকে মুখ করিয়া, দুই হাতের উপর ভর দিয়া চলিতে চলিতে ঐ সব কথা বলে।”
পরীক্ষিৎ ঘোষ বলিল,—“তবে?”
সে “তবে”র আমি আর উত্তর দিতে পারিলাম না।
কেষ্টা তাড়াতাড়ি গিয়া আপনার বাপকে সংবাদ দিল। আমি তা জানিতাম না। পরীক্ষিৎ ঘোষ আসিয়া দুর্ল্লভীর ঘরের দ্বারে ছিকল দিয়া দিল। দুর্ল্লভীকে আর আমাকে ঘরের ভিতর বন্ধ করিয়া রাখিল। তাহার পর পাড়ার লোককে সংবাদ দিল। দুর্লভীর ঘরে আমাকে দেখিবার নিমিত্ত মেয়ে পুরুষ ছেলে বুড়ো পাড়া সুদ্ধ লোক ভাঙ্গিয়া পড়িল।
জাহ্নবী সাঁই বলিলেন,— “আমিও দেখিতে গিয়াছিলাম।” গণপতি ভড় বলিলেন,— “আমিও গিয়াছিলাম!” পুটীরাম চাকী বলিলেন,—“আমিও গিয়াছিলাম।” আধকড়ি ঢাক বলিলেন,— “আমিও গিয়াছিলাম।” লম্বোদর বলিলেন,— “আমি তখন বাড়ী ছিলাম না। বাড়ী থাকিলে আমিও যাইতাম।”
ক্রুদ্ধ হইয়া ডমরুধর বলিলেন,— “যাইতে বই কি! তুমি না গেলে কি চলে?”
দুর্ল্লভীর ঘরের সম্মুখ দিকে দুই পার্শ্বে দুইটা ছোট ছোট জানালা