সপ্তম পরিচ্ছেদ।
এলোকেশীর মুড়ো খেঙরা।
দেখিতে দেখিতে একজন বলিয়া বসিল, – “এলোকেশী ঠাকুরাণীকে সংবাদ দাও। তিনি আসিয়া কর্ত্তাটাকে একবার দেখুন।”
তখন আমার হৃৎকম্প হইল। একে তৃতীয় পক্ষের স্ত্রী। তাহার উপর উগ্রচণ্ডা—সর্ব্বদাই রণমূর্তি। আবার তাহার উপর আমি এই কন্দর্প পুরুষ। সর্ব্বদাই এলোকেশীর সন্দেহ। এ অবস্থায় আমাকে দেখিলে এলোকেশী যে আমার কি হাল করিবেন, তাই ভাবিয়া আমি আকুল হইলাম।
সেই হতভাগা ছোড়া কেষ্টা, বলিতে না-বলিতে আমার বাড়ীতে গিয়া সংবাদ দিল। এলোকেশীর গায়ের রং আমা অপেক্ষা কাল। রাগে এখন তাঁহার মুখটা অনেক দিনের ভূষোপড়া ধানসিদ্ধ হাঁড়ির ন্যায় হইল। ভীম যেরূপ ঘণ্টাওয়ালা লোহার গদা লইয়া দ্বৈপায়ন হ্রদের ধারে দুর্যোধনের সহিত যুদ্ধ করিতে পিয়াছিলেন, এলোকেশী ও সেইরূপ মুড়ো খেঙরা লইয়া দুর্লভীর ঘরে আসিয়া উপস্থিত হইলেন।
এলোকেশীকে দেখিয়া লোকে পথ ছাড়িয়া দিল। দ্বারের শিকল খুলিয়া তিনি ঘরের ভিতর প্রবেশ করিলেন। তাহার পর—বলিব কি ভাই, আর দুঃখের কথা। “পোড়ার মুখো বুড়ো ডেকরা! রঃ! আজি তোর ভুত ছাড়াইব”—এই কথা বলিয়া আমার মাথার টাক হইতে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত সেই মুড়ো খেঙরা দিয়া ঝাড়াইতে লাগিলেন। এলোকেশীর নব্য বয়স; ধাঙ্গড়ের কিল বা কি! এলোকেশীর এক এক ঘা খেঙরা ভীমের গদার ন্যায় আমার গায়ে পড়িতে লাগিল। আমি যত বলি- আর নয়! আর নয়! যথেষ্ট হইয়াছে,—ততই খেঙরার প্রহারে