ঘরে তুমি আমাকে বন্ধ করিয়া রাখিও। আর দেখ আমি অন্ধ। কাহারও সহায়তা ভিন্ন দুই পা চলিতে পারি না। পলাইব কি করিয়া? পূজার দিন কোন শিষ্যকে আমি এ স্থানে আসিতে দিব না। সাত আট দিন পরে তোমাকে টাকা কড়ি খুলিয়া দেখিতে বলিব না; পূজা সমাপ্ত হইলেই তৎক্ষণাৎ তুমি খুলিয়া দেখিবে যে, সমুদয় সম্পত্তি দ্বিগুণ হইয়া গিয়াছে!”
সন্ন্যাসীর এরূপ প্রস্তাবে আমি সম্মত হইলাম। সন্ন্যাসী শুভ দিন ও শুভ লগ্ন স্থির করিল। পূজা ও হোমের উপকরণের কর্ম দিল। সে সমুদয় আমি সংগ্রহ করিলাম। বাড়ীর দোতালায় নিভৃত একটা ঘরে পুজার আয়োজন করিলাম। ঘরে টাকা, মোহর, নোট যত ছিল, ও বিবাহের নিমিত্ত যে “গহনা গড়াইয়াছিলাম, সে সমুদয় বৃহৎ একটা বাক্সের মধ্যে বন্ধ করিয়া পূজার স্থানে লইয়া যাইলা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ।
চিত্রগুপ্তের গলায় দড়ি—মোটা দড়ি নয়।
নির্ধারিত দিন সন্ধ্যার সময় কেবল সন্ন্যাসী ও আমি সেই ঘরে গিয়া উপবেশন করিলাম। সন্ন্যাসী পাছে কোনরূপে পলায়ন করে, সে জন্য ঘরের দ্বারে চাকরকে কুলুপ দিয়া বন্ধ করিতে বলিলাম এবং একটু দূরে তাহাকে সতর্ক ভাবে পাহারা দিতে আদেশ করিলাম। সন্ন্যাসী ঘট স্থাপন করিল। দধি, পিঠালি ও সিন্দূর দিয়া ঘটে কি সব অঙ্কন করিল। তাহার পর ফট বষট্ শ্রীং ঐং এইরূপ কত কি মন্ত্র উচ্চারণ করিল। অবশেষে হোম করিতে আরম্ভ করিল। কিছুক্ষণ পরে স্বাহা স্বাহা বলিয়া আগুনে ঘৃত দিয়া সন্ন্যাসী আপনার থলি হাতড়াইয়া একটা টিনের কৌটা বাহির করিল। সেই কৌটাতে