বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২৬
ডমরু-চরিত।

 আমাদের দুই জনে এইরূপ তর্ক বিতর্ক হইতে লাগিল। কিন্তু সে ছোকরা নাছোড় বন্দা। এমনি সুমিষ্ট ভাষায় সে বক্তৃতা করিতে লাগিল যে, ক্রমে আমার মন ভিজিয়া আসিল। অবশেষে সে বলিল,—“আপনি বৃদ্ধ হইয়াছেন সত্য, কিন্তু মন আপনার বৃদ্ধ হয় নাই। মনটা আপনার নব যৌবনে ঢল ঢল করিতেছে। আর কোন ঔষধ লউন আর নাই লউন, আপনাকে এই রং ফরসা হইবার ঔষধটী লইতে হইবে। দিন কয়েক মুখে মাথিয়া দেখুন। আপনি ফুট গৌর বর্ণ হইয়া পড়িবেন। সুন্দর সুকুমার কুড়ি বৎসরের যুবক হইবেন।”

 ছেলেবেলা হইতে ফরসা হইবার আমার সাধ ছিল। অনেক সাবাং মাখিয়াছিলাম। কিছুতে কিছু হয় নাই। মনে মনে ভাবিলাম,—“এই ঔষধটা পরীক্ষা করিয়া দেখি না কেন? যদি আমার রং ফরসা হয়, তাহা হইলে দুর্লভী বাগিনী আমার রূপ দেখিয়া মোহিত হইবে।”

 শিশির মুল্য এক টাকা, কিন্তু সে আমাকে আট আনায় দিল। মূল্য লইয়া সে কিছু দূর গিয়াছে, এমন সময় আমার মনে এইরূপ চিন্তার উদয় হইল,—“আমি ডমরুধর! সুমিষ্ট বক্তৃতা করিয়া আমাকে ঠকাইয়া এ আট আনা লইয়া গেল। এ সামান্য ছোকরা নয়। ইহা দ্বারা কি কোনরূপ কাজ করিতে পারা যায় না?”

 এইরূপ ভাবিয়া আমি তাহাকে ডাকিলাম। অনেক আদর করিয়া আমার নিকট বসাইলাম। আমি বলিলাম,—“বাপু! তোমার নাম কি?”

 সে উত্তর করিল,—“আমার নাম শঙ্কর ঘোষ।”

 তাহার বাড়ী কোথায়, সে কি কাজ করে, প্রভৃতি তাহার পরিচয় গ্রহণ করিলাম। তাহার পর আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,—“তুমি তিনটা পাস দিয়াছ। পাঁচ দ্রব্য মিশাইয়া নূতন বস্তু প্রস্তুত করিতে পার। ঔষধ বেচিয়া কি হইবে? কোন একটা লাভের বস্তু প্রস্তুত করিতে পার না?”

 কিছুক্ষণ নীরবে সে চিন্তা করিয়া আমাকে বলিল,—“কল্য আসিয়া আপনার এ কথায় উত্তর দিব।”