বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৩৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩০
ডমরু-চরিত।

ডমরুধর উত্তর করিলেন, “সে বিপদের কথা আজ পর্য্যন্ত আমি কাহারও নিকট প্রকাশ করি নাই। আজ তাহা তোমাদিগকে বলিতেছি, শুন।”



দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।

ভিকু ডাক্তার।

 ডমরুধর বলিতে লাগিলেন,—ফাঁকতালে অনেকগুলি টাকা লাভ করিয়া মন আমার প্রফুল্ল হইল। শরীরটি নাদুর নুদুর নধর হইয়া উঠিল। আমি মনে করিলাম, দুর্লভীকে দেখাইয়া আসি। সে বার এই বাগ্‌দিনী সম্বন্ধে কি হইয়াছিল, তাহা তোমাদিগকে বলিয়াছি। সুন্দরবনের আবাদ হইতে আমি বাটী ফিরিয়া আসিতেছিলাম। পথে এক বেটা সাঁওতাল আমার কাপড় কাড়িয়া লইয়া আমাকে উলঙ্গ করিয়া ছাড়িয়া দিল। কোন স্থানে একদল বেদিয়া তাঁবু ফেলিয়াছিল। তাহাদের ছোট একটা লাল ঘাগরা বেড়ার গায়ে শুকাইতেছিল। সেই ঘাগরা চুরি করিয়া আমি পরিধান করিলাম। আমি মনে করিলাম যে, এরূপ বেশে দিনের বেলা গ্রামে প্রবেশ করিব না, সন্ধ্যা পর্য্যন্ত দুর্লভীর ঘরে লুকাইয়া থাকিব। তাহার ঘরে যেই প্রবেশ করিয়াছি, আর কেষ্টা ছোড়ার বাপ আসিয়া দ্বারে শিকল দিয়া দিল। কেষ্টা গ্রামের লোককে ডাকিয়া আনিয়া আমাকে দেখাইল। “রাঙা ঘাগরা পরিয়া পোড়ার মুখো ডেকরা বুড়ো আমার মন ভুলাইতে আসিয়াছে,”— এইরূপ গালি দিয়া দুর্লভী আমাকে অনেক ভর্ৎসনা করিল। তাহার পর এলোকেশী আসিয়া আমাকে ঝাঁটার দ্বারা প্রহার করিলেন।

 এ সব কথা তোমাদিগকে আমি পূর্ব্বে বলিয়াছি। সেই অবধি দুর্লভী আমার সহিত কথা কয় না। পথে দেখা হইলে