বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৩৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভিকু ডাক্তার।
১৩৫

গজাইতে লাগিল। প্রথম গলা হইল, তাহার পর বক্ষঃস্থল হইল, তাহার পর উদর হইল, তাহার পর হাত পা হইল। সে উঠিয়া বসিল। তখন আমি বুঝিলাম যে, সে হিন্দুস্থানী, বাঙ্গালী নহে। সে রাত্রি আমি তাহাকে আমার বাটীতে লইয়া যাইলাম। পরদিন সে আপনার দেশে চলিয়া গেল। এখানে থাকিলে আপনাদিগকে দেখাইতাম। হোমিওপ্যাথিক ঔষধের গুণ আছে বটে, কিন্তু ঠিক ঔষধটী ধরা বড় কঠিন। অনেক দেখিয়া শুনিয়া আমার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা হইয়াছে। রোগীর চেহারা দেখিলেই আমি ঠিক ঔষধ ধরিতে পারি। আমার হাতে একটাও রোগী মারা পড়ে না। সেজন্য কলিকাতার হোমরা চোমরা ডাক্তারগণ, যাহারা ষোল টাকা বত্রিশ টাকা ভিজিট গ্রহণ করেন, তাঁহাদের যখন হালে পানি পায় না, তখন তাঁহারা বলেন, ঝিঁ'ঝিরডাঙ্গার ভিকু ডাক্তারকে লইয়া এস, তিনি না হইলে এ রোগের ঔষধ কেহ ঠিক করিতে পারিবে না। সে জন্য মাঝে মাঝে আমাকে কলিকাতায় যাইতে হয়।”

 ভিকু পুনরায় বলিলেন,—“আমি আর একটা চমৎকার ঔষধ বাহির করিয়াছি। যে ঔষধে প্রজাপতি দক্ষের গলায় ছাগলের মুণ্ড জোড়া লাগিয়াছিল, ইহা সেই ঔষধ। হাত পা এমন কি মানুষের মাথা কাটিয়া দুইখানা হইয়া গেলেও, আমি এক বড়িতে পুনরায় জুড়িয়া দিতে পারি।”

 ভিকু নানারূপ গল্প করিলেন। অবাক্ হইয়া সকলে তাঁহার গল্প শুনিতে সকলে মনে করিল যে, ইহার তুল্য বিচক্ষণ ডাক্তার জগতে লাগিল। নাই।  দুর্লভীর চিকিৎসার জন্য আমি তাঁহাকে এক টাকা দিতে চাহিলাম। কিন্তু প্রথমে তিনি কিছুতেই তাহা লইলেন না। তিনি বলিলেন,—“আমি পাঁচ ক্রোশ পথ হইতে আসিয়াছি। চারি টাকা লইব।”

 অনেক কচলাকচলির পর আমি বলিলাম যে,—“আপাততঃ আপনি এক টাকা লউন, রোগী ভাল হইলে পরে আর তিন টাকা দিব।”

 এ প্রস্তাবে সম্মত হইয়া তিনি এক টাকা লইয়া প্রস্থান করিলেন।