এক প্রকার সবুজ রঙের গুড়া ছিল। হরিৎ বর্ণের সেই চূর্ণ সন্ন্যাসী আগুনে ফেলিয়া দিল।
ঘর সবুজ বর্ণের ধূমে পরিপূর্ণ হইল। আমার নিদ্রার আবেশ হইল। আমি ভাবিলাম যে, এইবার সন্ন্যাসী বেটা একটা কাণ্ড করিবে, আমাকে অজ্ঞান করিয়া আমার টাকাকড়ি লইয়া কোনরূপে পলায়ন করিবে। উঠিয়া দ্বারে ধাক্কা মারিয়া আমার চাকরকে ডাকিব, এইরূপ মানস করিলাম। আমি উঠিতে পারিলাম না। আমার হাত পা অবশ অসাড় হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু আমার জ্ঞান ছিল। হঠাৎ আমার মাথা হইতে “আমি” বাহির হইয়া পড়িলাম। আমার শরীরটী তৎক্ষণাৎ মাটির উপর শুইয়া পড়িল। শরীর হইতে যে “আমি” বাহির হইয়াছি, তাহার দিকে তখন চাহিয়া দেখিলাম। দেখিলাম যে, সে “আমি” অতি ক্ষুদ্র, ঠিক বুড়ো আঙ্গুলের মত, আর সে শরীর বায়ু দিয়া গঠিত। সেই ক্ষুদ্রশরীরে আমি উপর দিকে উঠিতে লাগিলাম সূক্ষ্ম বা লিঙ্গ শরীরের কথা পূর্ব্বে শুনিয়াছিলাম। মনে করিলাম যে, ঔষধের ধূমে সন্ন্যাসী আমাকে হত্যা করিয়াছে, মৃত্যুর পর লোকের যে লিঙ্গ শরীর থাকে, তাহাই এখন যমের বাড়ী যাইতেছে।
ছাদ ফুঁড়িয়া আমি উপরে উঠিয়া পড়িলাম। সোঁ সোঁ করিয়া আকাশ পথে চলিলাম। দূর–দূর–দূর—কত দূর উপরে উঠিয়া পড়িলাম, তাহা বলিতে পারি না। মেঘ পার হইয়া যাইলাম, চন্দ্রলোক পার হইয়া যাইলাম, সূর্যলোকে গিয়া উপস্থিত হইলাম। সে স্থানে এক অশ্চর্য্য ঘটনা দর্শন করিলাম। দেখিলাম যে, আকাশ–বুড়ী এক কদম গাছতলায় বসিয়া, আঁশ বঁটি দিয়া সূর্য্যটাকে কুটি কুটি করিয়া কাটিতেছে, আর ছোট ছোট সেই সূর্য্য–খণ্ডগুলি “আকাশ–পটে জুড়িয়া দিতেছে। তখন আমি ভাবিলাম,—“ওঃ! নক্ষত্র এই প্রকারে হয় বটে! তবে এই যে নক্ষত্র সব, ইহারা সূর্য্যখণ্ড ব্যতীত আর কিছুই নহে! যে খণ্ডগুলি বুড়ী আকাশ-পটে ভাল করিয়া জুড়িয়া দিতে পারে না, আল্গা হইয়া সেইগুলি খসিয়া পড়ে। তখন লোকে বলে,—“নক্ষত্র পাত হইল।” কিছুক্ষণ পরে আমার ভয় হইল যে, —সূর্য্যটী তো গেল, পৃথিবীতে