বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৪৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
চঞ্চলার গাই গরু।
১৩৯

দিকে গরুর ধড় ও অপর দিকে তাহার কোমর ও পা রাস্তার উপর পড়িয়া ছিল। বিষণ্ণ বদনে সহদেব তাহাই দেখিতেছিল।

 সেই পথ দিয়া ভিকু ডাক্তার ব্যাগ হাতে লইয়া চিকিৎসা করিতে যাইতেছিলেন। তিনি দৌড়িয়া আসিলেন। এদিক ওদিক্ চাহিয়া আমার কোমর ও প। দেখিতে পাইলেন না। তখন সেই গরুর কোমর ও পা আমার শরীরে তিনি জুড়িয়া দিলেন। তাহার পর ব্যাগ খুলিয়া দুইটা হোমিওপ্যাথিক ঔষধের গুলি আমার মুখে দিলেন। ঔষধের গুণে সেই গরুর কোমর ও পা আমার শরীরে জুড়িয়া গেল। তাহার পর আর দুইটী বড়ি তিনি আমার মুখে দিলেন। তাহা খাইয়া আমি শরীরে বল পাইলাম। কিন্তু মানুষের মত গরুর দুই পায়ে আমি সোজা হইয়া দাঁড়াইতে পারিলাম না। গরুর দুই পা আর আমার দুই হাত মাটিতে পাতিয়া চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় আমাকে দাঁড়াইতে হইল।

 ইতিমধ্যে সে স্থানে অনেক লোক একত্র হইয়াছিল। এই অবস্থায় সকলে আমাকে গ্রামের ভিতর লইয়া গেল। সে স্থানে গিয়া ভিকু ডাক্তার বলিলেন,—“ডমরু বাবু! তুমি আমার পাওনা টাকা দাও নাই। আমাকে ফাঁকি দিয়াছিলে। কিন্তু এখন তোমার এই শরীরটী আমার হইল। গরুর কোমর তোমার শরীরে যদি আমি না জুড়িয়া দিতাম, তাহা হইলে এতক্ষণ কোন্ কালে তুমি মরিয়া যাইতে। দুইদিন পরে তোমার ধড়টা পচিয়া যাইত, অথবা পুড়িয়া ছাই হইত। অতএব তোমার শরীরটা এখন আমার। আমার চাষ আছে। যতদিন বাঁচিবে ততএই। দিন আমার ক্ষেত্রে তোমায় কাজ করিতে হইবে।” এই কথা বলিয়া আমার গলায় গরুর দড়ি দিয়া তিনি টানিতে লাগিলেন। চঞ্চলার পিতা সহদেব তাঁহার হাত হইতে দড়ি কাড়িয়া লইল। সে বলিল,—“ভাল রে ভাল! ইনি তোমার? সে কিরূপ কথা? ইহার আধখানা চঞ্চলার গাই। এখনও ইহার দুধ হইবে। আমরা ইহাকে ছাড়িয়া দিব না।”