হইতে আসিল, যে স্থান হইতে আসুক, এ সামান্য কাচ নহে। বোতল ও শিশির লোকটা মেনীকে চারিটী পয়সা দিল। ভিলের নিকট হইতে আমি কাচদণ্ড চাহিলাম। ভিলে দিতে সম্মত হইল না। দুই পয়সা দিয়া তাহা আমি কিনিতে চাহিলাম। তথন মেনী বলিল,—“দাও, দাদা দাও। কাচটুকু লইয়া তুমি কি করিবে? ডমরু বাবু দুই পয়সা দিলে আমাদের ছয় পয়সা হইবে। ছয় পয়সার চাউল কিনিলে দুই দিন তোমাকে পেট ভরিয়া ভাত দিতে পারিব।”
ভিলে বলিল,—“বড় ক্ষুধা পাইয়াছে। আমি কলাপাতা কাটিয়া আনি?”
মেনী বলিল,—“না ভাই, এখন নয়। রও আগে নেকোর দোকান হইতে চাউল কিনিয়া আনি, ভাত রাঁধি, তখন কলাপাতা কাটিয়া আনিও।”
শিশি বোতল লইয়া লোকটা চলিয়া গেল। কাচখণ্ড লইয়া আমিও বাটী আসিলাম! মনে করিলাম, কখনই এ সামান্য কাচ নহে। এবার কলিকাতা গিয়া কোন জহুরীকে দেখাইব।
কিন্তু সেই দিন বৈকাল বেলা আমি বিষম গোলযোগে পড়িলাম। কলিকাতা হইতে একটা লোক আসিয়াছিল। সে কেষ্টার বাপ, গ্রামের চৌকিদার, শিশি-বোতল-ক্রেতা, মেনী, ভিলে ও অন্যান্য গ্রামবাসীরে সঙ্গে করিয়া আমার বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইল। কলিকাতার সেই লোকটা বলিল,—“আমি যোগেশ বাবুর সরকার। আমার বাবুর বাড়ীতে এই বালিকার মাসী চাকরানী ছিল। যোগেশ বাবুর স্ত্রী ঘোরতর পীড়িত হইয়াছিলেন। ইহার মাসি তাঁহার অনেক সেবা করিয়াছিল। যোগেশ বাবুর স্ত্রীর কাণে দুইটী হীরার টপ ছিল। কিছু দিন পূর্ব্বে একটা টপ হারাইয়া গিয়াছিল। ভালরূপ ছোড়া মিলাইতে না পারিয়া অপর টপটী তাঁহার বাসকতে তিনি ফেলিয়া রাখিয়াছিলেন। পুরস্কার স্বরূপ ইহার মাসীকে তিনি সেই টপটী দিয়াছিলেন। তাহার সোণাটুকু ইহার মাসী বোধ হয় বেচিয়া ফেলিয়াছিল। কাচ মনে করিয়া হীরকখণ্ড শিশির