বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৬৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ডমরুধরের হীরক লাভ।
১৬৩

ভিতর ফেলিয়া রাখিয়াছিল। তাহার মূল্য চারি শত টাকা। আপনি দুই পয়সায় তাহা ফাকি দিয়া লইয়াছেন। যে টপটী হারাইয়া গিয়াছিল, এক্ষণে তাহা মিলিয়াছে। সে জন্য জোড়া মিলাইবার নিমিত্ত এই বালিকা ও তাহার ভ্রাতাকে চারিশত টাকা দিয়া হীরক খণ্ড লইতে বাবু আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন। হীরক খণ্ড আপনি আমাকে প্রদান করুন।”

 পয়সা দিয়া কিনিয়াছি, কেন আমি দিব, এইরূপ বলিয়া প্রথম আমি দিতে সম্মত হই নাই। কিন্তু পরে বুঝিলাম যে, যোগেশ বাবু আমাকে সহজে ছাড়িবেন না। চিরকাল মামলা মকদ্দমা করিয়া আসিতেছি। মামলা মকদ্দমা আমি বিলক্ষণ জানি। আমি বুঝিলাম যে, মকদ্দমা হইলে হীরা আমি রাখিতে পারিব না, চাই কি আমার সাজা হইলেও হইতে পারে। ফল কথা, হীরা আমাকে ফিরিয়া দিতে হইল। যোগেশ বাবু হীরার মূল্য চারি শত টাকা মেনী ও ভিলের নামে এক স্থানে জমা রাখিয়াছেন। এক্ষণে প্রতি মাসে তিনি তাহাদিগকে পাঁচ টাকা করিয়া দিতেছেন।

 হীরকও গেল, বাগানের খোঁচটী ও ভাঙ্গিল না। মনে আমার ঘোরতর দুঃখ হইল। মা দুর্গাকে ভর্ৎসনা করিয়া আমি বলিতে লাগিলাম,— “মা! কেন আমার এরূপ হরিষে বিষাদ করিলে? চারি শত টাকা আমার হাতে দিয়া কেন আবার কাড়িয়া লইলে? এবার হইতে আর মা তোমার আমি পূজা করিব না।”

 পূজা করিব না শুনিয়া মা দুর্গার বোধ হয় রাগ হইল। আমাকে আক্রমণ করিবার নিমিত্ত পর দিন তিনি জ্বরাসুরকে প্রেরণ করিলেন। কম্প-দিয়া আমার জ্বর আসিল। একদিন গেল, দুই দিন গেল, জ্বর ক্রমেই বাড়িতে লাগিল। তিন দিনের দিন আমি বেচু ভুঞাকে ডাকিতে পাঠাইলাম। বেচু জাতিতে কৈবর্ত্ত। প্রথম সে চাষ করিত, এখন কবিরাজ হইয়াছে। চারি পাঁচ খানা গ্রামে বেচুর বিলক্ষণ পসার হইয়াছে। আমার হাত দেখিয়া বেচু শ্লোক পড়িয়া বলিল, —