“কম্প দিয়া জ্বর আসে কম্প দেয় নাড়ী।
ধড় ফড় ক'রে রোগী যায় যম-বাড়ী॥
ইহাকে বিষ-বড়ি দিতে হইবে।”
এলোকেশী নিকটে ছিলেন। তিনি বলিলেন, “সে কি! তিন দিনের জ্বরে বিষ-বড়ি?”
বেচু বলিল,—“এ সামান্য বিষ-বড়ি নয়। এ নূতন ঔষধ সম্প্রতি আমি নিজে মনগড়া করিয়া প্রস্তুত করিয়াছি। ইহাতে কোন দোষ নাই। ইহার গুণ অনেক। এই দেখ আমি নিজে আস্ত দুইটা খাইয়া ফেলি।” এই কথা বলিয়া বেচু নিজে দুইটা বড়ি গিলিয়া ফেলিল। তাহার পর মধুর সহিত খলে মাড়িয়া আমাকে কটা বড়ি খাইতে দিল।
বেচু চলিয়া গেল। তিন ঘণ্টা পরে তাহার ঔষধের গুণ প্রকাশিত হইল। আমার চক্ষু দুইটী লাল হইয়া উঠিল। বুক ধড় ফড় করিতে লাগিল। শরীর অবসন্ন হইয়া আসিল। প্রাণ যায় আর কি। এলোকেশীর মেজাজটা কড়া বটে, কিন্তু শরীরে অনেক গুণ আছে। মাটিতে পড়িয়া তিনি কাঁদিতে লাগিলেন।
ডমরুধরের বন্ধু অধিকড়ি বলিলেন, “হাঁ, সেই সময় আমি তোমার বাড়ীতে আসিয়াছিলাম। তোমার সেই অবস্থা দেখিয়া তাড়াতাড়ি আমি বেচু ভুঞাকে ডাকিতে যাইলাম। বেচু ঘরে ছিল না। খুঁজিতে খুঁজিতে দেখিলাম যে, সে এক পানা-পুকুরের জলে গা ডুবাইয়া বসিয়া আছে! তাহার চক্ষু দুইটী জবা ফুলের ন্যায় হইয়াছে। পানা পুকুরের পচা পাক তুলিয়া মাথায় দিতেছে। আমি বলিলাম, —‘বেচু! করিয়াছ কি? ডমরুধরকে তুমি কি ঔষধ দিয়াছ? তোমার ঔষধ খাইয়া ডমরুধর মারা পড়িতে বসিয়াছে!' মাথায় কাদা দিতে দিতে বাজখাঁই 'স্বরে বেচু উত্তর করিল,—‘বড়ি খাইয়া আমিই বা কোন ভাল আছি।’ আমি বুঝিলাম যে, সে অবস্থায় তাহাকে আর কোন কথা বলা বৃথা। পুনরায় তোমার