এই কথা বলিয়া যম নিজে সেই লোকটীকে জেরা করিতে লাগিলেন,—“কেমন হে বাপু! কখনও বিলাতি বিস্কুট খাইয়াছিলে?”
সে উত্তর করিল,—“আজ্ঞা না।”
যম জিজ্ঞাসা করিলেন,— “বিলাতি পাণি? যাহা খুলিতে ফট্ করিয়া শব্দ হয়? যাহার জল বিজবিজ করে?”
সে উত্তর করিল,—“আজ্ঞা না।”
যম পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন,—“সত্য করিয়া বল, কোনরূপ অশাস্ত্রীয় খাদ্য ভক্ষণ করিয়াছিলে কি না?”
সে ভাবিয়া চিন্তিয়া উত্তর করিল,—“আজ্ঞা, একবার ভ্রমক্রমে একাদশীর দিন পুইশাক খাইয়া ফেলিয়াছিলাম।”
যমের সর্ব্বশরীর শিহরিয়া উঠিল। তিনি বলিলেন,—“সর্ব্বনাশ! করিয়াছ কি! একাদশীর দিন পুইশাক! একাদশীর দিন পুইশাক! ওরে! এই মুহূর্তে ইহাকে রৌরব নরকে নিক্ষেপ কর্। ইহার পূর্ব্ব পুরুষ, যাহারা স্বর্গে আছে, তাহাদিগকেও সেই নরকে নিক্ষেপ কর্। পরে ইহার বংশধরগণের চৌদ্দ পুরুষ পর্যন্তও সেই নরকে যাইবে। চিত্রগুপ্ত! আমার এই আদেশ তোমার খাতায় লিখিয়া রাখ। “
যমের এই বিচার দেখিয়া আমি তো অবাক্। এইবার আমার বিচার। কিন্তু আমার বিচার আরম্ভ হইতে না হইতে আমি উচ্চৈঃস্বরে বলিলাম,—“মহারাজ! আমি কখন একাদশীর দিন পুইশাক ভক্ষণ করি নাই।”
আমার কথায় যম চমৎকৃত হইলেন। হর্ষোৎফুল্ল লোচনে তিনি বলিলেন,—“সাধু সাধু! এই লোকটী একাদশীর দিন পুইশাক খায় নাই। সাধু,সাধু! এই মহাত্মার শুভাগমনে আমার যমালয় পবিত্র হইল। যমনীকে শীঘ্র শঙ্খ বাজাইতে বল। যমকন্যাদিগকে পুষ্পবৃষ্টি করিতে বল। বিশ্বকর্ম্মাকে ডাকিয়া আন,—ভূঃ ভুবঃ স্বঃ মহঃ জনঃ তপঃ সত্যলোক পারে ধ্রুবলোকের উপরে এই মহাত্মার জন্য মন্দাকিনী-কলকলিত, পারিজাত–পরিশোভিত,