তুমি আমার বরপুত্র। কেন তুমি বলিয়াছিলে যে, আর আমার পূজা করিবে না? সেই জন্য তোমাকে এই রোগ দিয়াছি। কিন্তু ভয় নাই, তোমাকে আমি রোগ হইতে মুক্ত করিলাম। তাহার পর আরও একটু নূতন বুদ্ধি তোমাকে আমি দিলাম। এই বুদ্ধিটুকু তুমি খেলাইবে। তাহা হইলে হীরাখণ্ড হাত ছাড়া হইয়া তোমার যে ক্ষতি হইয়াছে, তাহার দশগুণ তোমার লাভ হইবে। কিন্তু বাছা, তোমার পূজার আমি যে তৃপ্তিলাভ করি, বঙ্গদেশে কাহারও পূজায় সেরূপ তৃপ্তিলাভ করি না।”
সপ্তম পরিচ্ছেদ।
ডমরুধরের নূতন বুদ্ধি।
সেইদিন হইতে আমার রোগ দূর হইয়া গেল। জ্বর গেল। দিন দিন শরীরে বল পাইতে লাগিলাম। রোগের পর আমার যেন নূতন শরীর হইল। এখন মা যে নুতন বুদ্ধিটুকু আমাকে দিয়াছেন, তাহা খেলাইয়া হীরকের দশগুণ টাকা আদায় করিতে আমি চেষ্টা করিতে লাগিলাম।
একদিন বসিয়া বুদ্ধি খেলাইতেছি, এমন সময় আমার মনে কোন বিষয় উদয় হইল। আমি একটু হাসিয়া কেলিলাম।
এলোকেশী জিজ্ঞাসা করিলেন,—হাসিতেছ কেন? আমি বলিলাম,—“চুপ কর। বুদ্ধি পাকিয়া আসিতেছে।”
খুলনা জিলায় বাঘেরহাটের নিকট নিলামে আমি এক মহল কিনিয়াছিলাম। তাহা লইয়া আজ কয়েক বৎসর ধরিয়া ত্রিশঙ্কু বাবুর সহিত মকদ্দমা চলিতেছিল। অন্য বিষয়ে আমি টাকা খরচ করি না বটে, কিন্তু মকদ্দমার জন্য টাকা খরচ করিতে কখনও কাতর হই না। এক একটা