বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৭৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ডমরুধরের নূতন বুদ্ধি।
১৬৯

দলিল জাল করাইতে আমি পাঁচ শত টাকা ব্যয় করি। এক একজন মিথ্যা সাক্ষীকে আমি পাঁচ হইতে দশ টাকা দিয়া বশ করি। মিথ্যা মকদ্দমা আমি যেমন সাজাইতে পারি, মিথ্যা সাক্ষীদিগকে আমি যেমন শিখাইতে পারি, এমন আর কেহ পারে না। আদালতে হলফ করিয়া আমি নিজে যখন মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করি, তখন কোন উকীল জেরা করিয়া আমাকে ঠকাইতে পারে না। ত্রিশঙ্কু বাবু আমার সহিত পারিবেন কেন? দুটা আদালতে তিনি হারিয়া গিয়াছিলেন।

 মহলের একস্থানে বনের ভিতর প্রাচীন ইটে গাঁথা একটা প্রাচীর ও শানের চাতাল ছিল। সেই চাতালের কথা আমার মনে পড়িল। আমি কলিকাতায় যাইলাম। কোন লোককে টাকা দিয়া একখানি তামার পাতে সে কালের বাঙ্গালা ভাষায় অনেকগুলি কথা খোদিত করাইলাম। তাহা লইয়া ঘিট্‌টু ধাঙ্গড়ের সহিত আমি বাঘেরহাটে মহলে গমন করিলাম। ঘিট্‌টুকে সেই চাতালের উপর সপরিবারে বাস করিতে বলিলাম। গাছের ডাল পালা দিয়া তাহার উপর সে এক ঝুপড়ি প্রস্তুত করিল। ত্রিশঙ্ক বাবু বন্দুক লইয়া একটা কুকুরের সহিত প্রায় প্রতিদিন প্রাতঃকালে সেই পথ দিয়া গমন করেন। আমি টোপ ফেলিলাম। ত্রিশঙ্কু বাবু এখন কি করেন, তাহা দেখিবার নিমিত্ত আমি খুলনায় আসিয়া বাসা ভাড়া করিয়া বসিয়া রহিলাম।

 একদিন প্রাতঃকালে ত্রিশঙ্কু বাবু মহলের নিকট সেই পথ দিয়া যাইতেছিলেন। তিনি দেখিলেন যে, ঘিট্‌টু ধাঙ্গড়ের বৃদ্ধ মাতা ছোট একখানি তামার পাত মাজিয়া পরিষ্কার করিতেছে। ত্রিশঙ্কু বাবু তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন,—“তোর হাতে ওটা কি?”

 বৃদ্ধা উত্তর করিল,—“জানি না, বাবু কি! উনুন করিবার নিমিত্ত চাতালের শান খুঁড়িতে খুড়িতে এইটা আমি পাইয়াছি।” ত্রিশঙ্কু বাবু হাতে করিয়া দেখিলেন। পুরাতন বাঙ্গালা ভাষায় তাহাতে যে কথাগুলি লেখা ছিল, তাহার একটু দেখিয়াই তিনি চমকিত হইলেন।