কিন্তু মাইকেল আমাকে অধিক টাকা দিতে পারিতেন না। টাকা দিতেন বঙ্কিম। কোন দিন পাঁচ, কোন দিন দশ। যে দিন “দুর্গেশনন্দিনী” শেষ করিয়া তাঁহার হাতে দিলাম, সে দিন তিনি আমাকে একেবারে এক শত টাকা দিয়াছিলেন। অন্যান্য পুস্তকের জন্যও তিনি আমাকে অনেক টাকা দিয়াছিলেন। মাইকেল ও বঙ্কিম অনেক কাকুতি মিনতি করিয়া আমাকে বলিয়াছিলেন যে,—“মহাশয়! আপনি যে আমাদের পুস্তক লিখিয়া দিয়াছেন, আমরা বাঁচিয়া থাকিতে সে কথা প্রকাশ করিবেন না।” সেই জন্য এতদিন চুপ করিয়া ছিলাম। আর দেখ, এখন যত বড় বড় গ্রন্থকার জীবিত আছেন, অন্ততঃ সাধারণে যাঁহাদিগকে গ্রন্থকার বলিয়া জানে, তাঁহাদের সমুদায় পুস্তকের প্রণেতা এই শর্মা। হাসি পায়। নাম করিব না। নাম করিলে, তাঁহাদের মান সম্ভ্রম একেবারে যাইবে। অনেক অনুনয় বিনয় করিয়া নাম করিতে তাঁহারা আমাকে মানা করিয়াছেন। সেই জন্য চুপ করিয়া আছি। কিন্তু তাঁহারা যে গ্রন্থকার বলিয়া লোকের নিকট পরিচয় দেন। তাই আমার হাসি পায়।
এই দেখ, আজ কাল হোমরুল বলিয়া একটা হুজুগ পড়িয়াছে। এই লোকটি সে সম্বন্ধে বক্তৃতা করিতেছেন।