বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৭৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ঢাক মহাশয়।
১৭৫

নহে। জিলেট মন্ত্র। আসল বীজ মন্ত্র। এ মন্ত্রের যে কি অদ্ভুত শক্তি, এতদিন তাহা আমি জানিতাম না। এইবার জানিতে পারিয়াছি। এই মন্ত্রের প্রভাবে আমি শুক্লাম্বর ঢাককে ঘোর বিপদ হইতে রক্ষা করিয়াছি। প্রেতযোনি প্রাপ্ত তাঁহার কন্যাকে উদ্ধার করিয়াছি। সমুদ্রযাত্রা জনিত পাপ হইতে তাঁহার জামাতাকে পরিত্রাণ করিয়াছি।

 লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন, শুক্লাম্বর ঢাক মহাশয়ের কি হইয়াছিল?



দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।

ঢাক মহাশয়।

 ডমরুধর বলিলেন,— শুক্লাম্বর ঢাক মহাশয় গুরুগিরি করেন। তাঁর অনেক শিষ্য আছেন। গুরুগিরি করিয়া তাঁহার বিলক্ষণ দুপয়সা উপার্জ্জন হয়। দোতালা কোঠা বাড়ীতে তিনি বাস করেন। মকদ্দমা-মামলা সম্বন্ধে তাঁহার যেরূপ ব্যুৎপত্তি, এরূপ ব্যুৎপত্তি প্রায় দেখিতে পাওয়া যায় না। নানা বিষয়ে ঢাক মহাশয় আমার সহায়তা করেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। ঢাক মহাশর অতি নিষ্ঠাবান পুরুষ। পূজা আহ্নিক জপ তপে তিনি অনেক সময় অতিবাহিত করেন। সে জন্য তাঁহার প্রতি আমার অগাধ ভক্তি। আজ কাল ব্রাহ্মণেরা ত্রিসন্ধ্যা করে না। টিকিনাড়ারা সে উপদেশ কাহাকেও প্রদান করে না। কিন্তু ঢাক মহাশয় সে প্রকৃতির লোক নহেন। কাহাকেও চা বা বরফ খাইতে দেখিলে তিনি আগুনের ন্যায় জ্বলিয়া উঠেন। সন্ধ্যা-আহ্নিকে যাহাতে লোকের প্রবৃত্তি হয় সে বিষয়ে তিনি চেষ্টা করেন।