হইয়াছে। ক্রমাগত এপাশ ওপাশ করিতেছে। মা একটু জল দাও, মা একটু জল দাও, ক্রমাগত এই কথা বলিতেছে। মা! পিপাসায় আমার বুক ফাটিয়া যাইতেছে। একটু জল দাও। একটু জল দাও মা। একটু খানি দাও। কেবল মুখটি ভিজাইয়া দাও। একটু জল না খাইয়া থাকিতে পারি না। জল, জল, জল।
আর বিরস বদনে মা নিকটে বসিয়া আছেন। মাঝে মাঝে বাতাস করিতেছেন। মাঝে মাঝে চক্ষুর জল মুছিতেছেন।
ঢাক মহাশয় আমাকে চুপি চুপি বলিলেন,—আজ একাদশী। বিধবা। সেই জন্য জল দিতে বারণ করিয়াছি। কিন্তু জল দিতে আমার গৃহিণীর ইচ্ছা। এখন করি কি? এখন করি কি? সেই জন্য তোমাকে ডাকিতে পাঠাইয়াছিলাম।
নীচে গিয়া আমি বলিলাম,—বাপরে! জল কি দিতে পারা যায়? ব্রাহ্মণের ঘরের বিধবা। একাদশীর দিন জল খাইতে দিলে তাহার ধর্মটি একেবারে লোপ হইয়া যাইবে!
ঢাক মহাশয় তাহাই করিলেন। কন্যাকে জল দিলেন না। রাত্রিতে কন্যা পাছে নিজে জল চুরি করিয়া খায়, অথবা তাহার কষ্ট দেখিয়া মাতা ভগিনী কি অপর কেহ পাছে তাহাকে জল প্রদান করে, সে জন্য সন্ধ্যার সময় কুন্তলাকে তিনি নীচে তালার এক ঘরে বদ্ধ করিয়া চাবি দিয়া দিলেন। সমস্ত রাত্রি পীড়িতা কন্যা একেলা সেই ঘরে রহিল। ধর্মরক্ষা সম্বন্ধে ঢাক মহাশয়ের এমনি দৃঢ় পণ।
প্রাতঃকালে যখন তিনি ঘরের চাবি খুলিলেন, তখন সকলে দেখিল যে, বালিকা পিপাসায় হতজ্ঞান হইয়া ঘরের ভিজা মেজে এক বার হইতে অপর ধার পর্যন্ত সমস্ত রাত্রি বার বার চাটিয়াছে।অবশেষে অজ্ঞান হইয়া ঘরের এক কোণে পড়িয়া আছে।মাতা তাহাকে কোলে তুলিয়া লইলেন। কিন্তু তাহার মাথাটি লুটিয়া পড়িল। সেদিন দ্বাদশী। মাতা তাহার মুখে জল দিলেন, কিন্তু সে গিলিতে পারিল না। দুই কশ দিয়া জল বাহিরে