আসিয়া পড়িল। সে আর কথা কহিল না। শেষকালে একবার মাত্র বলিল,—“জল—জল।” এই কথা বলিয়া সে প্রাণত্যাগ করিল।
এই ঘটনার কথা যখন চারিদিকে প্রচারিত হইল, তখন দেশশুদ্ধ লোক ঢাক মহাশয়কে ধন্য ধন্য করিতে লাগিল। সকলে বলিল,—কি দৃঢ় মন! কি ধর্ম্মের প্রতি আস্থা! এরূপ পুণ্যবান্ লোক কলিকালে হয় না। তাঁহার প্রতি লোকের এত ভক্তি হইল যে, এক মাসের মধ্যে তাঁহার এক শতের অধিক নূতন শিষ্য হইল।
কন্যার মৃত্যুতে ঢাক মহাশয়ের আনন্দ হইল। তিনি বলিলেন, বিধবা হইয়া চিরজীবন দুঃখে যাপন করা অপেক্ষা মরাই ভাল। কিন্তু মৃত কন্যা তাঁহাকে অধিক দিন আনন্দ ভোগ করিতে দিল না। একদিন রাত্রি দুই প্রহরের সময় সহসা “জল, জল! হা জল! হা জল!” এইরূপ ভীষণ চীৎকার করিয়া সে বাড়ীর চারিদিকে ছট্ফট্ করিয়া বেড়াইল। সকলের নিদ্রা ভঙ্গ হইল। সকলে ঘোর ভয়ে ভীত হইল। ইহার চারিদিন পরে ঢাক মহাশয়ের পুত্রটি মরিয়া গেল। এইবার ঢাক মহাশয় শোকে অভিভূত হইয়া পড়িলেন। পনর দিন পরে আবার কুন্তলার ভূত সেইরূপ জল জল করিয়া চীৎকার করিল। এবার মাতঙ্গিনী নামক দাসীর মৃত্যু হইল।
ফল কথা, যখনই কুন্তলার ভূত চীৎকার করিত, তখনই বাড়ীর একটা না একটা লোক মরিতে লাগিল। দাসীর মৃত্যুর পর ঢাক মহাশয় গয়াতে পিণ্ড দিবার জন্য লোক পাঠাইলেন। কিন্তু তাহাতে কোন ফল হইল না। কারণ কিছুদিন পরে পুনরায় যখন চীৎকার হইল, তখন ঢাক মহাশয়ের ছট্টু নামক চাকর মরিয়া গেল। বিধবা হইয়া একাদশীর দিন ভিজা মেজে চাটা পাপটি সামান্য নহে। গয়াতে হাজার পিণ্ড দিলেও ইহা ক্ষয় হয় না।