বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৯০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮৬
ডমরু-চরিত।

কালিকা উত্তর করিলেন যে,—“আমার সন্দেশের হাড়ী কে লইয়া গিয়াছে।” আমি বলিলাম,—“গোটা কত সন্দেশের জন্য এত কান্না কেন? ঢাক মহাশয় তোমাকে অনেক সন্দেশ কিনিয়া দিবেন।”



পঞ্চম পরিচ্ছেদ।

উড়ুখ্‌খু হাঁড়ী।

 ক্রমে সকল কথা প্রকাশ পাইল। পিতার অগোচরে কালিকা ঘর হইতে পলায়ন করিবেন, স্বামীর সহিত এইরূপ পরামর্শ করিয়াছিলেন। বুধবার সন্ধ্যা বেলা কেশব ঘোড়ার গাড়ীতে আসিয়া কাটিগঙ্গার ঘাটের নিকট লুক্কায়িত থাকিবেন। একটু অন্ধকার হইলে কালিকা ভুলুকে লইয়া সেই স্থানে গমন করিবেন। তাহার পর ঘোড়ার গাড়ীতে রেলষ্টেশন যাইবেন। সে স্থান হইতে রেল গাড়ীতে কেশব স্ত্রী-পুত্র লইয়া আপনার গ্রামে গমন করিবেন। বাক্স লইয়া গেলে পাছে কেহ জানিতে পারে, সে জন্য কালিকা আপনার গহণাগুলি হাঁড়ীতে রাখিয়া তাহার উপর সন্দেশ চাপা দিয়া বনে রাখিয়াছিলেন। যাইবার সময় লইয়া যাইবেন, এইরূপ মানস করিয়াছিলেন।

 যখন এই সব কথা প্রকাশ হইল, তখন একটা হুলস্থুল পড়িয়া গেল। কে সে হাঁড়ী লইয়া গেল, তাহার অনুসন্ধান হইতে লাগিল। দুই জন গ্রামের লোক বলিল যে, সন্ধ্যার সময় তাহারা জাম গাছের নিকট দিয়া যাইতেছিল। পেমা চাকি গরুর গাড়ী লইয়া সেই পথ দিয়া আসিতেছিল। কেষ্টা তাহাকে একটা হাড়ী দিল। ইহা তাহারা দেখিয়াছে।

 তৎক্ষণাৎ এক জন লোক প্রেম চাকির বাড়ীতে দৌড়িল। আর