মনুষ্য শরীর পাইবেন। আর যতদিন না পুনরায় আপনার মনুষ্য শরীর হয়, ততদিন আপনাকে আমি ছাড়িয়া যাইব না।”
রাত্রি নয়টার সময় আমি নিজ হাতে খড় কাটিয়া তাঁহাকে জাব দিলাম।তাহার পর গোয়ালের দেল ঠেশ দিয়া বসিয়া আমি ক্রমাগত মা দুর্গাকে ডাকিতে লাগিলাম। আমি বলিলাম যে,—“মা! তুমি আমাকে নানা বিপদ হইতে রক্ষা করিয়াছ। আমার বন্ধুকে তুমি এ বিপদ হইতে রক্ষা কর। ইনি পুজা করিবেন না বলিয়াছেন। কিন্তু মা! ভাবিও না; যাহাতে ইনি এ বৎসর ঘটা করিয়া তোমার পূজা করেন, আমি সে ব্যবস্থা করিব।”
সপ্তম পরিচ্ছেদ।
আবার এলোকেশী।
মা দয়াময়ী। মা আমার কান্না শুনিলেন। রাত্রি তিনটার সময় গোয়ালে অন্ধকারে বসিয়া আমি একটু চক্ষু বুজিয়াছি, এমন সময় মা আমাকে দর্শন দিলেন। মা বলিলেন,—“ডমরুধর! তুমি আমার বরপুত্র, কিছু ভয় নাই, সরস্বতীর কৃপায় তোমার মুখ হইতে জিলেট মন্ত্র বাহির হইয়াছিল, সেই মহামন্ত্রের প্রভাবে তুমি ঢাকের পশুত্ব মোচন কর। কুন্তলাকে উদ্ধার কর, কেশবকে সমুদ্রযাত্রাজনিত পাপ হইতে মুক্ত কর। সমুদ্রযাত্রাতো সামান্য কথা। জিলেট মন্ত্র প্রভাবে মানুষের সকল পাপ দূর হয়। এই মহামন্ত্রের মহিমা অপার। জিলেট জিলেকি সিলেমেল কিলেকিট কিলেকিশ।”
এইরূপ উপদেশ দিয়া মা অন্তর্দ্ধান হইলেন। প্রাতঃকালে উঠিয়া আমি প্রথমে স্নান করিলাম, শুচি হইয়া গোয়ালে প্রবেশ করিয়া একচক্ষুহীন দামড়া গরুর অর্থাৎ ঢাক মহাশয়ের গায়ে হাত বুলাইয়া আমি