দ্বিতীয় গল্প।
প্রথম পরিচ্ছেদ।
পূর্ব্বকাহিনী।
ডমরুধর বলিলেন,—পূজার সময় সন্ন্যাসি-সঙ্কটের গল্পে আমার সম্বন্ধে আরও দুইটী বিষয়ের উল্লেখ করিয়াছিলাম। কিন্তু আমার একটু পূর্ব্বকাহিনী না বলিলে তোমরা সে সমুদয় বিষয় বুঝিতে পারিবে না। আজ যদি কৃত্তিবাস, কাশীদাস থাকিতেন, তাহা হইলে আমার বুদ্ধি, আমার বীরত্ব, আমার কীর্ত্তির বিষয়ে তাঁহারা ছড়া বাঁধিতেন। ঘরে ঘরে লোকে তাহা পাঠ করিয়া কৃতার্থ হইত। আর, যাত্রায় যাহারা দূতী সাজে, হাত নাড়িয়া নাড়িয়া তাহারা আমার বিষয়ে গান করিত। একদিন রেলগাড়ীতে যাইবার সময় শুনিয়াছিলাম যে, কে একজন মাইকেল ছিলেন। কে একজন আবার তাঁহার জীবনচরিত লিথিয়াছেন। এ বৎসর আমার বাগানে অনেক কাঁচকলা হইয়াছে। খরিদদার নাই, যিনি মাইকেলের জীবনচরিত লিখিয়াছেন, তিনি যদি আমার বিষয়ে সেইরূপ একখানি পুস্তক লেখেন, তাহা হইলে তাহাকে আমি তের পণ কাঁচকলা দিতে সম্মত আছি।
আমার পিতা জমিদারি কাছারিতে মুহুরিগিরি করিতেন। যৎসামান্য যাহা বেতন পাইতেন, অতি কষ্টে তাহাতে আমাদের দিনপাত হইত। মাতা পিতা থাকিতে আমার প্রথম নম্বরের বিবাহ হইয়াছিল। তাঁহাদের পরলোক গমনে কলিকাতায় হর ঘোষের কাপড়ের দোকানে কাজ করিতাম। মাহিনা পাঁচ টাকা আর খাওয়া। যে বাড়ীতে বাবুর বাসা ছিল,