জন সন্ন্যাসী চড়িয়াছে, তৃতীয় ঘোড়ার উপর সেই প্রস্তরের কালীমূর্ত্তি ও পূজার আসবাব বোঝাই আছে। তাহার পশ্চাতে প্রায় পাঁচ শত হাত দূরে মাটি হইতে চারি পাঁচ হাত উপরে শূন্যপথে লোহার সিন্দুক যাইতেছে। সিন্দুক হইতে প্রায় দুই শত হাত পশ্চাতে হাতা, বেড়ি, কড়া, খন্তা, দা, কুডুল লৌহনির্ম্মিত দ্রব্যসমূহ সেইরূপ শূন্যপথে যাইতেছে। তাহার প্রায় দুই শত হাত দূরে চাবির থোলো আমাকে টানিয়া লইয়া যাইতেছে। কাণ্ডখানা কি, তখন আমি কিছুই বুঝিতে পারি নাই। তখন আমার প্রাণ লইয়া টানাটানি, কোমর কাটিয়া শরীরটী দুইখানা হইবার উপক্রম হইয়াছিল। ভাবিবার চিন্তিবার তখন সময় ছিল না।
মাঠের উপর দিয়া প্রায় এক ক্রোশ পথ এই ভাবে আমাকে টানিয়া লইয়া চলিল। তাহার পর সহসা দুম্ করিয়া শব্দ হইল। চাহিয়া দেখিলাম যে, দূরে সিন্দুকটী মাটিতে পড়িয়াছে, তাহার শব্দ। আরও নিরীক্ষণ করিয় দেখিলাম যে, সিন্দুকের অগ্রে ঘোড়া তিনটী স্থির হইয়া দাঁড়াইয়া আছে, সন্ন্যাসী দুই জন ঘোড়ার পিঠ হইতে নামিয়াছে, আর তৃতীয় ঘোড়া হইতে কালীর প্রতিমাটীও নামাইয়া নীচে মাটির উপর সিংহাসনে রাখিয়াছে।
সিন্দুকটী সেই মাটিতে পড়িল, আর তাহার পরক্ষণেই হাতা, বেড়ি, খন্তা, কুড়ুল প্রভৃতি ঝুপঝাপ ঠুনঠান্ করিয়া মাটিতে পড়িয়া গেল। তাহার পরক্ষণেই আমার চাবি পূর্ব্বের ন্যায় কোমরে ঝুলিয়া পড়িল। কোমরে ঘুনসির টান আর রহিল না। তখন আমার ধড়ে প্রাণ আসিল, তখন যথানিয়মে নিঃশ্বাস ফেলিয়া আমি সুস্থির হইলাম। সেই স্থানে আমি প্রায় এক ঘণ্টা পড়িয়া রহিলাম। এক ঘণ্টা পরে যখন আমি পুনরায় চাহিয়া দেখিলাম, তখন দেখিলাম যে, দূরে সে ঘোড়াও নাই, সে সন্ন্যাসীও নাই, অনেকক্ষণ পরে অতি সাবধানে, অতি ধীরে ধীরে, অতি ভয়ে ভয়ে আমি সেই স্থানে গিয়া উপস্থিত হইলাম; দেখিলাম যে, সন্ন্যাসী দুই জন লোহার সিন্দুকটি কোনরূপে ভাঙ্গিয়াছে অথবা খুলিয়াছে। তাহার ভিতর টাকাকড়ি গহনা-পত্র যাহা কিছু ছিল, সে সমুদয় লইয়া গিয়াছে। চারিদিকে