ঝুড়িটা সে উপুড় করিয়াছে, সেই বেগুণগুলি সম্মুখে ডাঁই করিয়া রাখিয়াছে। ঝুড়ির উপর বসিয়া মাগী বেগুণ বেচিতেছে!
শঙ্কর ঘোষ বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন,—“কুমীরের পেটের ভিতর ঝুড়ির উপর বসিয়া সে বেগুণ বেচিতেছিল?”
ডমরুধর বলিলেন,—“হাঁ ভাই! কুমীরের পেটের ভিতর সেই ঝুড়ির উপর বসিয়া মাগী বেগুণ বেচিতেছিল।”
লম্বোদর জিজ্ঞাসা করিলেন,—“কাহাকে সে বেগুণ বেচিতেছিল? কুমীরের পেটের ভিতর সে খরিদ—দার পাইল কোথা?”
বিরক্ত হইয়া ডমরুধর বলিলেন, তোমার এক কথা! কাহাকে সে বেগুণ বেচিতেছিল, সে খোঁজ করিবার আমার সময় ছিল না। সমুদয় গহনাগুলি সে নিজের গায়ে পরিয়াছিল, তাহা দেখিয়াই আমার হাড় জ্বলিয়া গেল। আমি বলিলাম,—“মাগী! ও গহনা আমার। অনেক টাকা খরচ করিয়া আমি কুমীর ধরিয়াছি, ও গহনা খুলিয়া দে।” কেঁউ মেউ করিয়া মাগী আমার সহিত ঝগড়া করিতে লাগিল। তাহার পর তাহার পুত্রগণ ও তাহার জাতি-ভাইগণ কাঁড়বাঁশ ও লাঠি সোটা লইয়া আমাকে মারিতে দৌড়িল। আমার প্রজাগণ কেহই আমার পক্ষ হইল না। সুতরাং আমাকে চুপ করিয়া থাকিতে হইল। সাঁওতালগণ সে মাগীকে ঘরে লইয়া গেল। দিন কয়েক শূকর মারিয়া ও মদ খাইয়া তাহারা আমোদ প্রমোদ করিল। পূর্ব্বদেশীয় সে ভদ্র মহিলার একখানি গহনাও আমি পাইলাম না। মনে মনে ভাবিলাম যে, কপালে পুরুষের ভাগ্যও সকল সময় প্রসন্ন হয় না।
লম্বোদর বলিলেন,—“এত আজগুবি গল্প তুমি কোথায় পাও বল দেখি?”
ডমরুধর বলিলেন,—এতক্ষণ হাঁ করিয়া এক মনে এক ধ্যানে গল্পটা শুনিতেছিলে। যেই হইয়া গেল, তাই এখন বলিতেছ যে, আজগুবি গল্প। কলির ধর্ম্ম বটে!