বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬৪
ডমরু-চরিত।

 আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,—আমার প্রতি কি কোনরূপ অভিশাপ হইয়াছিল?

 দৈবজ্ঞ উত্তর করিলেন,—“না, তাহা নহে। বিবাহ করিবার নিমিত্ত একদিন আপনি মায়ের নিকট আবদার করিয়াছিলেন। ভগবতী বলিলেন,—বাছা, এ দেবলোকে তোমাকে কেহ কন্যা প্রদান করিবে না। যদি বিবাহ করিতে সাধ হইয়া থাকে, তাহা হইলে পৃথিবীতে গিয়া অবতীর্ণ হও।”

 দৈবজ্ঞ আরও বলিলেন,—“পৃথিবীতে আপনি আসিয়াছেন, কিন্তু একটু সাবধানে থাকিবেন। মা দশভুজা আপনাকে ভালবাসেন, সেজন্য আপনার প্রতি নন্দীর একটু ঈর্ষা আছে। ছল পাইলে সে আপনাকে দুঃখ দিবে।”

 দেখ লম্বোদর, ঐ যে ময়ূরের উপরে যিনি বসিয়া আছেন, উনি আর কেহ নহেন, উনি আমি স্বয়ং। অবতার হইলে দেবতাগণ আত্ম বিস্মৃত হইয়া থাকেন, আমিও সেই জন্য আত্ম বিস্মৃত হইয়া আছি। আর তোমরাও আমার মাহাত্ম্য বুঝিতে পারিতেছ না।

 লম্বোদর বলিলেন,—“হাঁ কার্ত্তিকের মত তোমার রূপ বটে।”

 ডমরুধর বলিলেন,—ঠাট্টা কর, আর যাই কর। গণৎকর যাহা বলিয়াছে, তাহা ঠিক। নন্দীর কোপে পড়িয়া কয়মাস যে আমি ঘোরতর কষ্ট পাইয়াছিলাম, তাহা তো আর মিথ্যা নহে?

 লম্বোদর বলিলেন,—“আবার বুঝি একটা আজগুবি গল্প হইবে?”

 ডমরুধর রাগিয়া বলিলেন,—“তোমার যদি শুনতে ইচ্ছা না থাকে, তাহা হইলে কাণে আঙ্গুল দিয়া থাক।”

 তাহার পর পাঁচজনের অনুরোধে ডমরুধর এইরূপে গল্পটা বলিতে লাগিলেন,—

 গত বৎসর নবমী পূজার দিন। রাত্রি শেষ হইয়াছে। বাহির—বাড়ীতে কিরূপ একটা খুটখাট শব্দ হইতে লাগিল। দু পয়সা আমার সঙ্গতি