ছিলেন। লম্বোদর তাঁহাকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন,—“আচ্ছা, চতুর্ভূজ! তুমি তো বি-এ পাস করিয়াছ, অনেক লেখা পড়া শিখিয়াছ। ডমরুধর শিব ও দুর্গার স্তবের কথা বলিলেন। তুমি একটা স্তোত্র বল দেখি, শুনি।”
চতুর্ভূজ তৎক্ষণাৎ বলিলেন,— “শিব দুর্গার স্তোত্র এই, ওঁ অমৃতোপস্তরণমসি স্বাহা। ওঁ প্রাণায় স্বাহা। ওঁ আপনায় স্বাহা। ওঁ অপনায় স্বাহা।”
পুরোহিত হাসিয়া বলিলেন,—“ও স্তোত্র নহে।”
তাহার পর তিনি অস্পষ্ট স্বরে বলিতে লাগিলেন,—“প্রভু মীশমনীশমশেষগুণং, গুণহীন—মহীশ—গণাভরণম্। রণনির্জ্জিতদুর্জ্জয়দৈত্যপুরং, প্রণমামি শিবং শিবকল্পতরুম্॥” ইত্যাদি। পুনরায়—
“নমস্তে শরণ্যে শিবে সানুকম্পে, নমস্তে জগদ্ব্যাপিকে বিশ্বরূপে। নমস্তে জগদ্বন্দ্যপাদারবিন্দে, নমস্তে জগত্তারিণি ত্রাহি দুর্গে॥” ইত্যাদি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ।
ঘরে গৌতম বাহিরে গৌতম।
ডমরুধর বলিতে লাগিলেন,—কিছুক্ষণ পরে আমার চৈতন্য হইল। আমি উঠিয়া বসিলাম। চারিদিকে চাহিয়া দেখিলাম যে, মহাদেব নাই, দুর্গা নাই, নন্দী নাই, দোলা নাই, সে স্থানে কেহই নাই। কিন্তু আশ্চর্য্য! আছে কেবল আর একটা “আমি।” সেই টাক, সেই পাকা চুল, সেই কৃষ্ণ বর্ণ, সেই নাক, সেই মুখ, ফল কথা— হুবহু সেই আমি। প্রতিমার এক পার্শ্বে একটী আমি বসিয়া আছি, প্রতিমার অপর পার্শ্বে আর একটী আমি বসিরা আছি। কোন্ আমিটি প্রকৃত আমি, তাহা আমি ঠিক করিতে