বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭০
ডমরু-চরিত।

পারিলাম না। একদিকের আমি অন্য দিকের আমিকে জিজ্ঞাসা করিল,—“মহাশয়ের নাম?” সে উত্তর করিল,—“ডমরুধর।” পুনরায় অপর আমি এদিকের আমিকে সেই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিল। সেও সেইরূপ উত্তর করিল। ফল কথা, এ আমিও যা করে ও যা বলে, ও আমিও তাই করে ও তাই বলে।

 তখন আমার সকল কথা হৃদয়ঙ্গম হইল। সেবার সন্ন্যাসী-সঙ্কটে আমার লিঙ্গশরীর বাহির হইয়া যমালয়ে গিয়াছিল। শুনিয়াছি যে, আমাদের শরীর অন্নময় কোষ, প্রাণময় কোষ, মনোময় কোষ প্রভৃতি কয়েকটী কোষ দ্বারা গঠিত। একবার লিঙ্গ শরীর বাহির হইয়াছিল বলিয়া কোষগুলির বাঁধন কিছু আল্‌গা হইয়া গিয়াছিল। সে জন্য দুই একটী কোষ বাহির হইয়া আর একটী ডমরুধরের সৃষ্টি হইয়াছে। এখন উপায় কি? লোকে একটা আমির ভাত কাপড় যোগাইতে পারে না। তা যোগাইবার যেন আমার সঙ্গতি আছে, কিন্তু একটা আমির পেট কামড়াইলে লোক ব্যতিব্যস্ত হইয়া পড়ে। এক সঙ্গে দুইটা আমির পেট যদি কামড়ায় তখন আমি কি করিব?

 একটা আমি অপরটাকে বলিল,—“তুই চলিয়া যা, আমি প্রকৃত ডমরুধর, তুই জাল ডমরুধর।” অপরটাও সেই সেই কথা বলিল। দুই আমিতে ঘোরতর কলহ উপস্থিত হইল। ক্রমে হাতাহাতি হইবার উপক্রম হইল। এমন সময় প্রভাত হইল। প্রভাত হইবা মাত্র আমি একটা হইয়া যাইলাম। তখন আমার ধড়ে প্রাণ আসিল।

 পাছে পুনরায় দুইটা হইয়া যাই, সেই দুশ্চিন্তায় সমস্ত দিন আমি মগ্ন রহিলাম। বিজয়া দশমীর পূজার পর পুরোহিত ঠাকুর যখন আমাকে মন্ত্র পড়াইলেন,—আয়ুর্দ্দেহি যশো দেহি ভাগ্যং ভবতি দেহি মে,—তখন আমার সুবল ঘোষের কথা মনে পড়িল। দুর্গোৎসব করিয়া, ভক্তিতে গদ্‌গদ হইয়া সুবল নিজেই ঠাকুরের সম্মুখে প্রাণপণ যতনে শঙ্খ বাজাইলেন। শঙ্খ বাজাইতে গিয়া সুবলের গোগ্‌গোল বাহির হইয়া পড়িল। সে জন্য