দশমীর দিন সুবল অন্য বর প্রার্থনা না করিয়া, হাতযোড় করিয়া ঠাকুরকে বলিলেন,—
“ধন চাই না মা, যশ চাই না মা, চাই না পুত্তুর বর।
শঙ্খ বাজাতে গিয়া বেরিয়েছে গোগ্গোল, তাই রক্ষা কর॥”
প্রতিমা বিসর্জ্জন হইয়া গেল। সন্ধ্যার সময় আমি এক সহস্র দুর্গা নাম লিখিলাম। পাড়ার ছেলেরা আমাকে নমস্কার করিয়া গেল। আহারাদি করিয়া যথাসময়ে দোতালায় আমার ঘরে গিয়া শয়ন করিলাম। সিদ্ধি খাইয়া শরীর একটু গরম হইয়াছিল। সে জন্য আমার নিদ্রা হইল না। বিছানা হইতে উঠিয়া জানালার ধারে দাঁড়াইলাম। জ্যোৎস্না রাত্রি। বাড়ীর বাহিরে বাগানে আমার জানালার নীচে ও কে দাঁড়াইয়া রহিয়াছে? সেই আর একটা আমি! হাত নাড়িয়া তাহাকে আমি বলিলাম,—“যা চলিয়া যা!” নীচের আমিও উপরের আমিকে সেই কথা বলিল। উপরের আমি নীচে নামিলাম। থিড়কি দ্বার খুলিয়া আমি বাগানে যাইলাম। ও মা! দেখি না নীচের আমিটা উপরে গিয়া ঠিক আমার ঘরের জানালার ধারে দাঁড়াইয়া আছে। এ আমিটা একবার উপরে, একবার নীচে, ও আমিটা একবার উপরে, একবার নীচে, কতবার যে এইরূপ হইল তাহা বলিতে পারি না। তৃতীয় পক্ষে এলোকেশীর সহিত আমার কি প্রকারে বিবাহ হইয়াছিল, গত বৎসর সে কথা তোমাদের নিকট বলিয়াছি। আমি এলোকেশীকে জাগাইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম,—“এইমাত্র যখন আমি নীচে গিয়াছিলাম, তখন তোমার ঘরে আর একটা কে আসিয়াছিল।” এলোকেশী বলিল,—“মুখপোড়া, বুড়ো ডেকরা! এখনি ঝাঁটাপেটা করিব।” এলোকেশীর স্বভাবটা কিছু উগ্র! তাহাতে তৃতীয় পক্ষের স্ত্রী।
জানালা বন্ধ করিয়া আমি পুনরায় শয়ন করিলাম। পরদিন রাত্রিতেও সেইরূপ হইল। প্রতি রাত্রিতে সেইরূপ উপরে একটা, নীচে একটা, দুইটা আমির উপদ্রব হইল। আমি ভাবিলাম যে, প্রতি রাত্রিতে আমার “ঘরে গৌতম বাহিরে গৌতম” হইতে লাগিল, এ তো ভাল কথা নহে!