বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ছোট খাটো ভাল মানুষ ভূত।
৭৫

হইতে কাড়িয়া লইতে চেষ্টা করিল। আমি মাছের কানকো ধরিয়া, তাহারা মাছের লেজার দিক্ ধরিয়া; সেই মাঠের মাঝখানে ঘোরতর টানাটানি হইতে লাগিল। কিন্তু আমি একা, ভূত হইল দুইজন। দুইজনের সঙ্গে আমি কতক্ষণ টানাটানি করিতে পারি? ক্রমে আমি শ্রান্ত হইয়া পড়িলাম। তখন নিরুপায় হইয়া একটা ভূতের হাতে আমি কামড় মারিলাম। বলিব কি হে, ভূতের হাতের কথা। ঠিক যেন কাঠের উপর কামড় মারিলাম। তাহার পর দুর্গন্ধ! সেইরূপ ভয়ানক দুর্গন্ধ মানুষের নাকে কখন প্রবেশ করে নাই।

 আমার দাঁত নাই সত্য, কিন্তু সেই ফোকলা মুখের এক কামড়েই ভূত দুইটী পলায়ন করিল। তখন আমার মুখে দুর্গন্ধ! দুর্গন্ধে আমি ক্রমাগত উদ্গার করিতে লাগিলাম। সেইখানে বসিয়া ন্যাকার ন্যাকার ন্যাকার। মনে হইল, পেটের নাড়ী ভূড়ি বুঝি বাহির হইয়া গেল। নিশ্চয় বুঝিলাম যে, এইবার আমার আসন্নকাল উপস্থিত হইয়াছে। আমি সেই স্থানে চক্ষু বুজিয়া শুইয়া পড়িলাম ও নন্দীর অভিশাপের কথা ভাবিতে লাগিলাম। কিছুক্ষণ পরে কে যেন আমার মাথায় ও মুখে জল দিতেছে এইরূপ বোধ হইল। তাহাতে শরীর কিঞ্চিৎ সুস্থ হইল। চক্ষু চাহিয়া দেখিলাম,—কি আশ্চর্য্য, এ আবার কি? দেখিলাম যে, ছোট খাটো একটি নূতন ভূত আসিয়া আমার সেবা শুশ্রূষা করিতেছে।আমি উঠিয়া বসিলাম। তৎক্ষণাৎ ভূতটী কিছুদূরে পলায়ন করিল। আমার মাছটী সে চুরি করে নাই। মাছটা সেই স্থানে পড়িয়া ছিল। মাছটা লইয়া ধীরে ধীরে আমি আমাদের গ্রাম অভিমুখে আসিতে লাগিলাম ৷

 নূতন ভূতটী দূরে দূরে আমার সঙ্গে সঙ্গে আসিতে লাগিল। সে আমার নিকট হইতে মাছ চাহিল না। কোন কথাই বলিল না। দেখিলাম সে অতি ভাল মানুষ ভূত। আরও দেখিলাম সে অতি ভীত স্বভাবের ভূত। একবার আমি কাসিলাম, আর অমনি সে ভয়ে দূরে পলায়ন করিল। একবার আমি হাঁচিলাম, অমনি সে পলায়ন করিল। একবার একখানি