অবশেষে আমি তাহাকে বলিলাম,—“দেখ ভাল মানুষ ভূত! তুমি আমার উপকার করিয়াছ, তুমি আমার প্রাণ রক্ষা করিয়াছ। আমার সহিত তুমি চল, দুইখানা ভাজা মাছ তোমাকে আমি প্রদান করিব।”
ঘরে গিয়া এলোকেশীকে আমি মাছটা দিলাম। রান্নাঘরে এলোকেশী মাছ ভাজিতে লাগিল। কতকগুলি মাছ যেই ভাজা হইয়াছে, আর রান্নাঘরের ঘুলঘুলি দিয়া ভূতটা হাত বাড়াইল। তাহার হাতে চারিখানা মাছ দিলাম, আর তাহাকে আমি বলিলাম, “পুনরায় কাল এস, তোমাকে ভাল মাছ দিব।”
পরদিন বৈকাল বেলা খুদিরাম মণ্ডলের পুষ্করিণীতে চুপি চুপি হাতসূতা ফেলিয়া একটা রুই মাছ ধরিলাম। সন্ধ্যার সময় মাছটা আনিয়া এলোকেশীকে দিলাম। বলা বাহুল্য যে, আমি নিজের পুকুরের মাছ খরচ করি না, তাহা আমি বিক্রয় করি। সন্ধ্যার পর এলোকেশী যখন মাছ ভাজিতেছিল, তখন আমি রান্নাঘরে গমন করিলাম। আমার সাড়া পাইয়া ভূতটী ঘুলঘুলি দিয়া হাত বাড়াইল। তাহার হাতে আমি মাছ দিলাম। এইরূপ প্রতিদিন তাহার পুকুর হইতে গোপনে মাছ ধরিয়া ভূতটীকে আমি খাইতে দিতে লাগিলাম।