দীর্ঘ নিঃশ্বাস পরিত্যাগ করিয়া ডমরুধর পুনরায় বলিলেন,—“কুতবপুরে ঘটকীর সহিত আমার সাক্ষাৎ হইল, পুনরায় বিবাহ করিতে সে আমাকে প্রবৃত্তি দিল। আমি বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম। বিবাহের কথাবার্ত্তা চলিতে লাগিল। টাকায় কি না হয়? বাঁশপুরে এক বয়স্কা কন্যার সহিত বিবাহ স্থির হইল। তিনিই আমার বর্তমান গৃহিণী।”
লম্বোদর বলিলেন, “সে কথা আমরা জানি, আমরা বরযাত্র গিয়াছিলাম।”
ডমরুধর বলিলেন,—“কন্যার মাতা পিতা অর্থহীন বটে, কিন্তু আমার নিকট হইতে নগদ টাকা চাহিলেন না। তবে ঘটকী বলিল যে, বিবাহের সমুদয় খরচা আমাকে দিতে হইবে এবং কন্যার শরীরে যেখানে যা ধরে, সেইরূপ অলঙ্কার দিতে হইবে। তোমরা জান যে, আমি কখন একটী পয়সা বাজে খরচ করি না। লোক পাছে অলস হইয়া পড়ে, সেই ভয়ে ভিখারীকে কখন মুষ্টি ভিক্ষা প্রদান করি না। সেক্রার পেট ভরাইতে প্রথম আমি সম্মত হইলাম না। আমি বলিলাম যে, গহনার পরিবর্ত্তে কন্যার আঁচলে নোট বাঁধিয়া দিব। কিন্তু কন্যার মাতা পিতা সে প্রস্তাবে সম্মত হইলেন না। অবশেষে আমি ভাবিয়া দেখিলাম যে, আমার বয়স পঁয়ষট্টি বৎসর, তাহার পর আমাকে দেখিয়া কেহ বলে না যে, ইনি সাক্ষাৎ কন্দর্প-পুরুষ। নিজের কথা নিজে বলিতে ক্ষতি নাই,—এই দেখ আমার দেহের বর্ণটা ঠিক যেন দময়ন্তীর পোড়া শোউল মাছ। দাঁত একটাও নাই, মাথার মাঝাখানে টাক, তাহার চারিদিকে চুল, তাহাতে একগাছিও কাঁচা চুল নাই, মুখে ঠোঁটের দুই পাশে সাদা সাদা সব কি হইয়াছে। এই সব কথা ভাবিয়া গহণা দিতে আমি সম্মত হইলাম। যতদূর সাধ্য সাদা-মাটা পেটা সোণার গহনা গড়াইলাম; কিন্তু তাহাতেও আমার অনেক টাকা খরচ হইল। ফর্দ্দ অনেক। এক বাক্স গহনা হইল।”
শঙ্কর ঘোষ বলিলেন,—“তা বটে! কিন্তু বিপদটা কি?
ডমরুধর বলিলেন,— “ব্যস্ত হইও না। শুন।“