বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৯০
ডমরু-চরিত।

খিল্‌ খিল্‌ হাসিতে চারিদিক্ পূর্ণ করিল। আমি ভয় পাইলাম না, চক্ষু চাহিলাম না, বলিলাম,—“ঐ মদ মুড়ি-কড়াইভাজা আছে। খাও, কেবল খাইয়া ঘরে যাও।’ তাহার পর পুনরায় ধ্যানে মগ্ন হইলাম।



দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।

ডমরুধরের সিদ্ধিলাভ।

 এইরূপ কত যে বিভীষিকা হইল, সে কথা তোমাদিগকে কি আর বলিব! অবশেষে আমার পরলোকগতা মাতা আসিলেন। তিনি বলিলেন,— “বাছা, ডমরুধর! অনেক তপ করিয়াছ, আর কাজ নাই, এখন ঘরে চল, এখানে বসিয়া থাকিলে অসুস্থ করিবে!” আমি কোন উত্তর করিলাম না।

 তাহার পর আমার স্ত্রী এলোকেশী আসিলেন। তিনি বলিলেন,— “ঘরে চল্! না গেলে এখনি কাণ ধরিয়া লইয়া যাইব।” তোমরা সকলেই জান যে, এলোকেশীকে আমি যমের মত ভয় করি। তাঁহার কণ্ঠস্বর শুনিয়া প্রথম আমার হৃৎকম্প হইয়াছিল। কিন্তু আমার স্মরণ হইল যে, এ সব মিথ্যা। তখন আমি পুনরায় ধ্যানে প্রবৃত্ত হইলাম।

 আমার সে কঠোর তপ যখন কেহ কিছুতেই ভঙ্গ করিতে পারিল না, তখন মা দুর্গা স্বয়ং আসিয়া উপস্থিত হইলেন। মা বলিলেন,—“ডমরুধর! তোমার কঠোর তপস্থায় আমি সন্তোষ লাভ করিয়াছি। এক্ষণে বর প্রার্থনা কর।”

 আমি চক্ষু চাহিয়া দেখিলাম যে, ঠিক যেমন এই প্রতিমা, দেবী সেই বেশে আমার নিকট আগমন করিয়াছেন। মা দশভূজা, দক্ষিণে গণেশ ও লক্ষ্মী, বামে সরস্বতী ও কার্ত্তিক, নিম্নে সিংহ ও অসুর।